২০ মে, ২০১৫ ২৩:২০
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হয় তুলনামূলক বেশি। তবে এ বিভাগে লাইসেন্সধারী মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১০। এ সুযোগে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধভাবে বিদেশী মুদ্রা বিনিময় হওয়ায় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগে ১০টি লাইসেন্সধারী মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় নয়টি ও মৌলভীবাজারে রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান নেই। বছর দুয়েক আগেও ১৪টি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও চারটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
স্থানীয় মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটে ব্যাংকের হাতেগোনা কয়েকটি শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন হয়ে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য বেশি পাওয়ায় গ্রাহকরা অবৈধ প্রতিষ্ঠানের দিকেই ঝুঁকেছেন। এ বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ডলার মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয়। এর মধ্যে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে লেনদেন মাত্র ৪০-৫০ হাজার ডলারের মতো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর আম্বরখানা, সুরমা মার্কেট, লালদীঘির পাড়, মহানজনপট্টি, জিন্দাবাজার, দক্ষিণ সুরমা, বিয়ানীবাজার ও কালীঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দরগা গেটে সুরমা সুপার মার্কেট বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। এ মার্কেটে লেনদেনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে। তবে সেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী।
সরেজমিন দেখা গেছে, সুরমা সুপার মার্কেটের ৫১টি দোকানের প্রায় সবক’টিতেই বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় চলছে। ট্রাভেলস এজেন্সিতে ফোন-ফ্যাক্স ও ফটোস্ট্যাট ব্যবসার সাইনবোর্ড থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়া মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আরো অর্ধশত ব্যক্তি এ কার্যক্রমে যুক্ত, যারা দালাল নামে পরিচিত। গতকাল বৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোয় ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ৭৮ টাকা। তবে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো ১ ডলারের বিপরীতে দিচ্ছিল ৮০ টাকা।
সুরমা সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ও আফতাব মানি এক্সচেঞ্জের স্বত্বাধিকারী আফতাব চৌধুরী বলেন, অবৈধ ব্যবসায়ীদের দাপটে বৈধ ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। বিনিময় হার বেশি পাওয়ায় গ্রাহকরাও ছুটছেন অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। তবে অনেকে প্রতারিতও হচ্ছেন।
এ মার্কেটের অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিদেশী মুদ্রা কেনেন এখানকার তিন-চারজন বড় ব্যবসায়ী। তারা এসব মুদ্রা ঢাকায় নিয়ে যান।
তবে মুদ্রা বিনিময়ে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈধ মানি চেঞ্জারে মুদ্রার সঠিক দর পাওয়া যায় না। এছাড়া বিদেশগামী যাত্রীদের পাসপোর্টে মুদ্রা এনডোর্সমেন্টে বাড়তি টাকাও আদায় করা হয়।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক প্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল মোহাইমিন মিয়া বলেন, শুধু ব্রিটেনে মৌলভীবাজারের পাঁচ লাখেরও বেশি লোক বসবাস করেন। আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও অনেক লোক রয়েছেন। কিন্তু মৌলভীবাজারে মুদ্রা বিনিময়ের তেমন কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার জন্য কেবল সোনালী ব্যাংক মৌলভীবাজার বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় বিদেশী মুদ্রা লেনদেনের ব্যবস্থা রয়েছে। দুটি জেলার কমপক্ষে ২০-২৫ লাখ লোক বিদেশে বসবাস করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না এ ব্যাংক থেকে।
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখার মহাব্যবস্থাপক মোবারক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদন দেয়। কারো বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এর বাইরে কে বা কারা অবৈধভাবে ব্যবসা করছে, তার কোনো তদারক বাংলাদেশ ব্যাংক করে না।
আপনার মন্তব্য