সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ মে, ২০১৫ ১১:৩৫

এবার অনন্ত'র পাঠচক্রের দুই সদস্যকে হত্যার হুমকি

‘বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিল’—পাঠচক্রভিত্তিক এ সংগঠন গড়ে তোলা হয় কুসংস্কার দূর করে যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ গড়ার আন্দোলনের উদ্দেশ্যে। অনন্ত বিজয় দাশ ও তাঁর বন্ধুরা সিলেটে গঠন করেছিলেন পাঠচক্রের এ সংগঠন। অনন্ত হত্যার পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুজন। এই অবস্থায় নিরাপত্তার কারণে ইতিমধ্যেই কয়েকজন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে কেউ পুলিশকে কিছু জানাননি। সংবাদ সূত্র : প্রথম আলো। 

১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকায় নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় লেখক, ব্লগার ও তরুণ ব্যাংকার অনন্তকে।

অনন্তর কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধু জানান, ২০০৬ সালের দিকে অনন্ত তাঁর ছয়জন বন্ধু ও সহযোগীকে নিয়ে সিলেটে ‘বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে সংগঠনটির ৪০ জন সদস্য রয়েছেন। এ সংগঠন থেকেই অনন্তর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার অনিয়মিত ছোট কাগজ যুক্তি।

কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের তিনজন সদস্য মাস খানেক আগে থেকেই মুঠোফোনে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন। অনন্ত হত্যার পর দুজন পুনরায় হুমকি পেয়েছেন। এর মধ্যে একজন তিনবার মুঠোফোন নম্বর পরিবর্তন করার পরও হুমকি পাওয়ায় তিনি আবাসস্থল পরিবর্তন করেছেন। এই অবস্থায় সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ইতিমধ্যেই মুঠোফোন বন্ধ করে সিলেট ছেড়েছেন।

হুমকি পাওয়ায় এক তরুণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একজন  বলেন, ‘তিনবার মুঠোফোন পরিবর্তন করে হুমকি পাওয়ায় হুমকিদাতারা সিলেটে কিংবা তাঁর আশপাশেই অবস্থান করছে বলে ধারণা। এ কারণে বিষয়টি শঙ্কারও।’ বিষয়টি পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হচ্ছে না কেন—জানতে চাইলে ‘এ ব্যাপারটিও ঝুঁকির’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রাণনাশের হুমকি পাওয়া অনন্তর এক বন্ধু বলেন, ‘মাস খানেক আগে অনন্ত এবং আমি প্রাণনাশের হুমকি পাই। তবে সেটি খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। অনন্ত হত্যার পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। তবে যাঁরা হুমকি পেয়েছেন, তাঁরা যদি আমাদের অবহিত করেন, নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হুমকিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশকে বিষয়টি জানানো উচিত।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত