২১ মে, ২০১৫ ২১:৫৮
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের দেশের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্টি হচ্ছে চা শ্রমিকেরা। তারা সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই চা শ্রমিক জনগোষ্ঠিরজীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে আলাদা বরাদ্ধ রাখা হবে। তিন বছরের মধ্যে চা শ্রমিক জনগোষ্টির পানি ও স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান করা হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার শিশুদের জন্য আলাদা বাজেট করা হবে। তবে এবার খুব বেশি আশা করে লাভ নেই। প্রথমবার কিছু করতে গেলে তা খুব ভালো হয় না। তবে একবার শুরু করলে আগামীতে তা অনেক ভালো হবে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সঞ্চলনায় প্রাক বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ প্রমুখ।
প্রাক বাজেট আলোচনায় সিলেটের বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ আসন্ন বাজেট নিয়ে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের বাজেটগুলোতে ভিক্ষুকদের পুণর্বাসনের জন্য আলাদা বরাদ্ধ রাখা হতো।। কিন্তু এতে খুব একটা সুফল পাওয়া যায় না। তাই আগামী বাজেটে ভিক্ষুক পুণর্বাসনের বরাদ্ধ রাখা হবে না।
সিলেটের অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় নিয়ে আসতে বাজেটে বরাদ্ধ রাখতে বিভাগীয় কমিশনারের প্রস্তাবনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলেট হচেছ দেশের একমাত্র জেলা যেখানে বিপুল সংখ্যক জমি অনাবাদী থাকে। সিলেটের লোকজন আয়েশী ও কর্মবিমুখ। তারা কাজ করতে চান না। তাই মোট আবাদ যোগ্য জমির প্রায় ৩৩ শতাংশ অনাবাদী থাকে। সংখ্যায় যা প্রায় ১ লক্ষ ৮১ হাজার হেক্টর। আবাদযোগ্য জমি অনাবাদি থাকায় কৃষিমন্ত্রীও খুব ক্ষুব্দ। এগুলো আবাদের আওতায় নিয়ে আসতে তিনি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই জন্য বাজেটে বরাদ্ধ থাকবে।
সিলেটে পৃথক কোনো পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় সারা বছর বিভিন্ন পরীক্ষার কারনে কলেজগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত ভট্টাচার্য সিলেটে একটি বৃহৎ পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাজেটে বরাদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেন। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি সারাদেশের জন্যই একটি সমস্যা। আমরা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আগামী দুই বছরের মধ্যে সিলেটে একটি পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ জন্য জমিও পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন জনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলা কাউন্সিল গঠন করা হবে। এই বাজেটে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মান করা হবে।
আলোচনা বিভিন্ন বক্তারা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্রদান, ব্যক্তিখাতে করমুক্তির সীমা বাড়ানো, শস্য বীমা পরিধি বৃদ্ধি, হাওর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা কার্যকর, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতসহ বিভিন্ন প্রস্তাবে দেওয়া হয়। এছাড়া সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাক বাজেট আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রুপালি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবির, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান জাকারিয়া আহমদ পাপলু, শিল্প উদ্যোক্তা আলীমুল এহসান চৌধুরী, সাংবদিক ইকরামুল কবির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, নারী উদোক্তা স্বর্ণলাতা রায়, লাইলী আক্তার স্বপ্না, স্কুল শিক্ষক কাশমির রেজা প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য