২৪ মে, ২০১৫ ১৩:৫০
হামলাকারীদের 'বাস্টার্ড' গালি দিয়ে এদের ধরে 'ভালো করে পিটিয়ে জেলে দেয়ার' নির্দেশ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সেই নির্দেশেরও পেরিয়ে গেছে দুই দিন। রজত কান্তি গুপ্তের উপর হামলার পেরিয়েছে তিন দিন। হামলাকারীদের ধরে পেটাবে কি, এখনো কাউকে ধরতেই পারে নি পুলিশ।
ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে সিলেটে পুলিশ আসলে কার নির্দেশে চলে? কি কারণে উপেক্ষিত থেকে গেলো খোদ অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ? সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে স্থানীয় পুলিশের আন্তরিকতা ও সামর্থ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের ওপর ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে, সিলেট গণজাগরণ মঞ্চ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পক্ষে শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে নগরীর কবি নজরুল অডিটরিয়ামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের হামলায় আহত হন মেট্রোলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন নকিব ও মোহাম্মদ সায়মন মিয়া। আহতদের দেখতে গিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলার শিকার হন সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।
কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে ফ্লেইমস মিউজিক্যাল ক্লাবের কনসার্টে ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা হয়েছে মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির আহত অপর তিন ছাত্রের পক্ষে। কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা জহির আলম, মামলায় ইতোমধ্যে প্রীতম চক্রবর্তী নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে রজত কান্তি গুপ্তের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সিলেট কতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ বলেন, রজত গুপ্তের উপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয় নি। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মিউজিক্যাল ক্লাবের আয়োজিত মেঘদল ও আর্বোভাইরাসের কনসার্টে হামলা করে মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির তিন ছাত্রকে আহত করে এবং আহতদের দেখতে গিয়ে আহত হন রজত কান্তি গুপ্ত।
আপনার মন্তব্য