দিরাই প্রতিনিধি

২৬ মে, ২০১৫ ২১:২৩

দিরাই ভাটিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের দাফন সম্পন্ন, শোকাহত জনতার ঢল

দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী লিটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুর তিন দিন পর মঙ্গলবার তার লাশ প্রথমে দিরাইয়ে নিয়ে আশা হয়। এসময় পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল চেয়ারম্যান লিটন চৌধুরীর লাশ গ্রহন করেন এবং বালুর মাঠে  ১১ টায় লিটন চৌধুরীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর গ্রামের বাড়ি মধুরাপুরে নিয়ে আশা হলে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। এলাকাবাসি অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বারের মত দেখে নেয় তাদের প্রিয় মানুষটির মুখ । এ সময় প্রবীন রাজনীতিক দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তার আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ট সহচর লিটন চৌধুরীকে শেষবারের মত দেখতে ঢাকা থেকে তার গ্রামের বাড়িতে  ছুটে আসেন।

বিকেল ৪ টায় সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত তার লাশের কফিনে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিকেল ৫ টায় মধুরাপুর চারগ্রাম ইসলামিয়া মাদ্রসা মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এত ইমামতি করেন শায়খুল হাদিস মাওলানা নুরুল ইসলাম খান। এরপর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।  

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার ভোর ৬টায় না ফেরার দেশে  চলে যান চেয়রম্যান লিটন চৌধুরী। তার গর্ভধারিনী মা, স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ তার পািরবারের লোকজন আমেরিকা থাকায় মরহুমের লাশ সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। মরহুমের পরিবারের লোকজন আমেরিকা থেকে ফিরলে সিলেট হিমাগর থেকে প্রথমে দিরাইয়ে পরে গ্রামের বাড়ি মধুরাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানাজায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও  ইউপি চেয়ারম্যান আছাব উদ্দিন সরদার, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার ,ভাইস চেয়ারম্যান গোলাপ মিয়া, সিরাজ-উদদৌলা তালুকদার,সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সোহেল আহমদ, কৃষকলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি শাহজাহান সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়াসহ ইউপি চেয়রম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের  নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

শোকাহত মানুষের উদ্যেশ্যে আবেগ আপ্লুত কন্ঠে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমি লিটনকে খুব ভালবাসতাম, বিশ্বাস করতাম, সে আমার রক্তের ভাই না হলেও আমার আদর্শেও ভাই, তাকে হারানোর মধ্যদিয়ে শুধু আওয়ামীলীগ একজন দক্ষ সংগঠনকে হারায় নাই, ভাটিপাড়া ইউনিয়নবাসি তাদের একজন অভিভাবক ও তাদের ভালবাসার একজন মানুষকে হারিয়েছে।

লিটন ইউনিয়নবাসির সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিক ছিল উল্লেখ করে সুরঞ্জিত সেন বলেন, তার ত্যাগ ও কর্মদক্ষতাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই, তার অসমাপ্ত কাজ আমরা সম্পন্ন করবো, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে একজন আদর্শবান মানুষ হিসেবে মানুষের কল্যাণ করে গেছে, কোন বাধা বিপত্তি তাকে দমাতে পারেনি, এলাকার মানুষ লিটনকে কতটুকু ভালবাসতো আজকের উপস্থিতি তা প্রমান করে। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল বলেন, চেয়ারম্যান লিটন চৌধুরী আমাদের ভাটিবাংলার নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন, তিনি পরিবার পরিজনকে সুদুর আমেরিকা প্রবাসে রেখে এলাকার মানুষের প্রতি  তার ভালবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি, উনার কার্যক্রম দেখে আমি উৎসাহিত হয়েছি, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে চেয়ারম্যান সাবের যে প্রত্যাশা ছিল এবং এলাকার উন্নয়নে তিনি যে স্বপ্ন দেখছিলেন আমাদেরকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। উনার মত একজন ত্যাগী মানুষের যে কত প্রয়োজন ছিল আমরা তা এখন বুঝতে পারছি। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোশারফ মিয়া বলেন, তিনি শুধু একজন সৎ চেয়ারম্যান হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ সংগঠকও ছিলেন। ভাটিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রান পুরুষ ছিলেন লিটন চৌধুরী।



আপনার মন্তব্য

আলোচিত