২৬ মে, ২০১৫ ২২:৩৪
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ এলাকায় খোয়াই নদীতে বাঁধ দিয়ে শাহজিবাজার পাওয়ার প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি পারাপারের উদ্যোগ নিয়েছে এভান্ট লজিস্টিক লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী। কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়ে নদীতে বাঁধ দেয়ায় ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নূরুজ্জামান অভিযান চালান।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে খোয়াই নদীর ওই অংশে ড্রেজার দিয়ে মাটি এনে বাধ তৈরি শুরু করে এভান্ট লজিস্টিকের শ্রমিকরা। এসময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা স্থানীয়দের জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তারা কাজ করছেন। এভাবে নদীর মাঝ বরাবর বাধ দেয়ায় স্থানীয়রা প্রতিরক্ষা বাধ ও সংলগ্ন ব্রীজের ক্ষতির আশংকা করে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। তখনই টনক নড়ে প্রশাসনের।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কেউই বিষয়টি জানেন না। অনুমোদন দেয়া তো অনেক দূরের ব্যাপার। তাৎক্ষণিক খোঁজ নেয়া হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডে। কিন্তু সেখান থেকেও অনুমোদনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে সিনিয়র সহকারী কমিশনার নূরুজ্জামান অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় বাধের নির্মাণ কাজে সম্পৃক্তরা অনুমোদনের কোন কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বুধবারের মধ্যে কোন বৈধ কাগজ দেখাতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
সিনিয়র সহকারী কমিশনার নূরুজ্জামান জানান, খরস্রোতা নদীর মাঝখানে এভাবে বাঁধ নির্মাণ করা অবৈধ। এর ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ব্রীজ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পাশাপাশি এখন বর্ষা মওসুম হওয়ায় বৃষ্টিপাত হলেই বাধের উজানে বন্যা দেখা দিবে।
তিনি আরো জানান, এভান্ট কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ার প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি পারাপারের জন্য তারা বাধ নির্মাণ করছে। কিছুদিনের মধ্যেই প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি কুশিয়ারা নদী দিয়ে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় খালাস করা হবে। সেখান থেকে ১২০ চাকার ট্রাকে করে ২২২ মেট্রিক টন ওজনের যন্ত্রপাতি হবিগঞ্জের শাহজিবাজারে আনা হবে। ওই মালামাল পারাপারের জন্য তারা বাধ নির্মাণ করছে।
জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে আসামাত্র আমরা বাধা দিয়েছি। এ ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে কেউ কোন অনুমোদন নেয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, আমাদের কাছে তারা অনুমোদন প্রার্থনা করেছিল। কিন্তু আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমতি আনার জন্য তাদের পরামর্শ দেই। কিন্তু তারা অনুমোদন ছাড়াই কাজ শুরু করে। এ ব্যাপারে তাদেরকে কয়েক দফা চিঠির মাধ্যমে বাধা প্রদান করেছি।
এ ব্যাপারে এভান্ড লজিস্টিক লিমিটেড এর এমডি মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
আপনার মন্তব্য