হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

২৮ মে, ২০১৫ ১২:২৪

মা ও ২ সন্তানের মৃত্যুর ৬৫ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

নবীগঞ্জ উপজেলার  বড়ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বড়ভাকৈর গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়ার স্ত্রী রুমেনা বেগম (৩৫), ছেলে মুসা মিয়া (৭) ও মেয়ে মুসলিমা খাতুনের (৫) মৃত্যুর ২ মাস ৫ দিন পর পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

উক্ত ঘটনায় দায়েরী মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালত কবর থেকে তাদের ৩ জনের লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার জামিল এর উপস্থিতিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হবিগঞ্জ গোয়েন্দা শাখার (ডি.বি) এসআই মোহাম্মদ ইকবাল বাহার নিহত রুমেনা বেগমের পিত্রালয় গজনাইপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে রুমেনা বেগমের মৃতদেহ উত্তোলন করেন। লাশ উত্তোলনের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্তিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মাহমুদপুর গ্রামের মামলার বাদী আশুক মিয়ার ভাতিজি রুমেনাকে ২০০২ সালে বড় ভাকৈর গ্রামের আতাউর রহমানের পুত্র ফরিদ মিয়ার সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর তাদের কোল জুরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিছুদিন ধরে শ্বশুর বাড়ির লোকজন রুমেনার উপর নির্যাতন চালায়। বিষয়টি রুমেনা ফোনে প্রায়ই তার চাচাকে জানাত।

গত ২২ মার্চ দিবাগত রাতের কোন এক সময় রুমেনার স্বামী ফরিদ মিয়া তার ভাই বুরহান উদ্দিন, শাহাব উদ্দিনসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন রুমেনা ও তার দুই সন্তানকে হত্যা করে রুমেনার লাশ পার্শ্ববর্তী গাছে ঝুলিয়ে রাখে, এবং তারা প্রচার করে রুমেনা দুই শিশুকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা করেছে।

নবীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। রুমেনার চাচা আশুক মিয়ার সন্দেহ হলে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ২৩ মার্চ নবীগঞ্জ থানা পুলিশ রুমেনার স্বামী ফরিদ মিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় এবং মামলার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালায়।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার মহসিন করিম আসামীদের দ্বারা বশীভূত হয়ে হত্যাকে আত্মহত্যা বলে রিপোর্ট প্রদান করেন। এ প্রেক্ষিতে বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে গতকাল লাশ উত্তোলন করে হবিগঞ্জ হাসপাতালে আনা হয়। পরে অর্ধগলিত লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত