নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জুন, ২০১৫ ১৭:০৪

বৃষ্টি হলেও থেমে নেই জীবনের চাকা

সোবহান আলী। বয়স চল্লিশ বছর। উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর থেকে জীবিকার টানে এসেছেন সিলেটে। পুরো বছরেই  বিভিন্ন ধাপে সিলেটে এসে রিকশা চালিয়ে আয় করে ফিরে যান। কোন মাসে ১৫ দিন তো কোন মাসে ২০ দিন।

নগরীর তালতলা এলাকায় হঠাৎ আসা ঝুম বৃষ্টিতে মাথায় পলিথিন বাঁধার সময় কথা হয় তাঁর সাথে। জানান সংসারে ৩ ছেলে মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী দিনাজপুরেই থাকেন। তাঁর রিকশা চালানোর টাকায় স্কুল পড়ুয়া ২ মেয়ের খরচ আর সংসার চলে।

তবে বছরের এই সময়টায় রিকশা চালানোর বিড়ম্বনার কথা শোনালেন  তিনি। দেশের অন্যান্য শহরে বৃষ্টি হলে বসে থাকা যায় কিন্তু সিলেটে ভিন্ন ব্যাপার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিপাত প্রবণ এলাকা সিলেটে বর্ষা শুরু হয় সবার আগে আর শেষ হয় সবার শেষে।


এখানকার প্রবল আর প্রলম্বিত বর্ষায় বৃষ্টি দেখে কাজ থামালে আয় রোজগারও থেমেই থাকবে। কারণ এমন হয় যে টানা ৭ দিন কিংবা ১৫ দিনও বৃষ্টি হয় এখানে।

মুখরও বাদল দিনের গানে আড্ডায় যখন অন্য সকলে অফিসে কিংবা বাসায় বৃষ্টির রোমান্টিকতায় মোহাবিষ্ট তখন ভিজে কাক হয়ে যাত্রী নিয়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জীবনের চাকা নিয়ে ছুটে যেতে হয় সোবহান আলীদের।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তথ্য মতে সিলেটে প্রায় ২৫ হাজার রিকশাচালক রয়েছেন। যার বড় এক অংশ উত্তরবঙ্গ থেকে আসা।

বৃষ্টির সময় আয় রোজগারে নেতিবাচক প্রভাবের সাথে আছে যাত্রীদের সাথে ভাড়া নিয়ে বাক বিতণ্ডা। রিকশাচালকদের প্রত্যাশা তাদের কষ্টটুকু বুঝবেন যাত্রীরা। অন্তত বছরের এই সময়টায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ৫/১০ টাকা বাড়তি চাওয়া তাদের।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত