গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সংবাদদাতা

০২ জুন, ২০১৫ ০০:১৫

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর

মেঘলয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে পিয়াইন ও সারীনদীর প্লাবনে গোয়াইনঘাট ও  জৈন্তিাপুর উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন । উপজেলা সদরের সাথে পানিবন্দি মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কয়েক হাজার  হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দেশেরে বৃহত্তম দু‘টি পাথর কোয়ারীসহ সকল প্রকার কার্যক্রম বন্দ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।


শ্রমিক ও অসহায় মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছে বিপাকে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা আউশ ও আউশের বীজতলা এবং রোপা আউশ ও ইরি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।   পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা ঢলে উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল, নন্দীরগাঁও  ও পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নসহ সর্বত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।  তাছাড়া উপজেলার সদরের সাথে যোগাযোগের দু’টি রাস্তা সারী-গোয়াইন ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সড়কের অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

সোমবার(১ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায়- অধিকাংশ গ্রামই প্লাবিত রয়েছে। জাফলং পিয়াইন নদীতে ডাউকী নদীর ঢলে কোয়ারি বন্ধ রয়েছে। হাজার হাজার নৌকা সারীবদ্ধভাবে নদীর তীরবর্তী এলাকায় শ্রমিকরা বেঁধে রেখেছেন। পাথর শ্রমিক জয়নাল মিয়া জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকরা খুব কষ্টে রয়েছেন। 

ইউপি সদস্য শামছুদ্দিন জানান- তোয়াকুল ইউনিয় সর্বত্র তলিয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না।  জাফলং চা-বাগানের নেতা ও ইউপি সদস্য শারবেন মাহালী জানান- বাগান সর্বত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। শতাধিক শ্রমিকদের বসতঘর পানির নীচে তলিয়ে ঘেছে।  এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে আরও পানি বৃদ্ধি হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান- বন্যা কবলিত এলাকার মানুষকে আমরা সহযোগিতা করে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

ইতোমধ্যে আমরা জাফলং চা বাগানে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। বিত্তবানদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি। তাছাড়া প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের বরাবরে ত্রাণের জন্য লিখিত পত্র প্রেরণ করব। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী জানান- আমি বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখছি এবং ত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন প্রেরণ করছি। জৈন্তাপুর প্রতিনিধি জানান,   জৈন্তাপুরে প্রবল বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে এক প্রতিবন্ধী শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।   গত ২ দিনের টানা বর্ষণে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক পাহাড়ী ঢলের ফলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল খারুবিল, বিরাইমারা, চাতলারপাড়, ঢুলটিরপাড়, লক্ষ্মীপুর, চাতলারপার, হেলিরাই, থুবাং, উত্তর বাঘছড়াসহ বেশ কিছু এলাকা পাহাড়ী  ঢলে প্লাবিত হয়। এদিকে- গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঝর্ণাটিলার ছড়ায় পানিতে প্রতিদিনের মত মুখ ধুতে যায় প্রতিবন্ধী শিশু (মুখবধির) পলি। সে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ঝর্ণা টিলার প্রবল স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সে উপজেলার গুয়াবাড়ী গ্রামের তাজুল মিয়ার মেয়ে পলি বেগম (৭)।

অপরদিকে, আকস্মিক বন্যার ফলে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিরা। এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান- আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দুর্ঘতদের খোঁজখবর নেই। এছাড়া বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ গোলক চন্দ্র বসাক বলেন- শুনেছি টিলার প্রবল স্রোতে প্রতিবন্ধী এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত