১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৫২
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যার সহযোগি শান্তি কমিটির এক নেতাকে বিশেষ অতিথি করার অভিযোগ ওঠেছে। বিজয় দিবসের ওই কর্মসূচির আয়োজক ছিল জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ। এনিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে জগন্নাথপুর বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান চৌধুরী ওরফে সুফি মিয়া। তিনি শান্তি কমিটির চিলাউড়া- হলদিপুর ইউনিয়নের নেতা ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মনাফ।
এব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোককে নিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করা খুবই দুঃখজনক। কেননা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোকে অতিথি করে অনুষ্ঠান করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করার। এটা আওয়ামী লীগের ব্যানারে করাতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'বর্তমানে নিজের লোক ও ভোট বাড়ানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোকদের আওয়ামী লীগে টানছেন অনেকেই। যা দলের জন্য সুখকর নয়।'
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্য সচিব রসরাজ বৈদ্য বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল হান্নান চৌধুরী সুফি মিয়া ও তার বাবা আব্দুস ছোবান চৌধুরী শান্তি কমিটির নেতা ছিলেন। যা রক্তাক্ত একাত্তর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক অপূর্ব শর্মা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থেও একই কথা উল্লেখ রয়েছে।
পৌর মেয়র যে অনুষ্ঠানে শান্তি কমিটির নেতা সুফি মিয়াকে বিশেষ অতিথি করেছেন সে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নাম দিয়ে এসব অনুষ্ঠান করে শান্তি কমিটির নেতাকে অতিথি করা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের সভাপতি পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মনাফ বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডন ছিলাম। সেখান থেকে ফিরে এসে আমি আব্দুল হান্নান চৌধুরীকে সব সময় আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে দেখেছি এবং একসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুফি মিয়া বা তার বাবা শান্তি কমিটির নেতা ছিলেন কি না, সেটা আমার জানা নেই।
শান্তি কমিটির নেতা হিসেবে অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
আপনার মন্তব্য