মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

০১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৮:২৩

মৌলভীবাজারে স্থায়ীভাবে স্থাপন হচ্ছে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র

মৌলভীবাজারে স্থায়ীভাবে স্থাপন হচ্ছে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপি। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সিআরপি’র প্রতিষ্ঠাতা ভেলরি এন টেলরের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন মাসুদের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিআরপি’র প্রতিষ্ঠাতা ভেলরি এন টেলর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। সিআরপি’র মানবসেবায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।  

মতবিনিময় সভায় সিআরপি’র জন্য সদর উপজেলার মোকামবাজার এলাকায় অনুদান হিসেবে ৫৩ শতাংশ ভূমির দলিল হস্তান্তর করেন জমিদাতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই ভাই আফসারুল হক ও আতিকুল হক। তাঁদের গ্রামের বাড়ি একাটুনা ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামে। ইতোপূর্বে শহরের পশ্চিমবাজার এলাকায় তিনতলা ভবনসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৪ শতাংশ ভূমি প্রদান করেন আছিয়া বেগমের পুত্র কানাডা প্রবাসী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল গফফার। এ ভবন বিক্রি করে সে টাকা মোকামবাজার স্থায়ী কেন্দ্রে ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নগদ অর্থ অনুদানের ঘোষণা দেন। তাৎক্ষণিক ৫ লাখ টাকা দেন প্রবাসী আব্দুল মতিন খান। নগদ এক লাখ টাকা করে অনুদানের ঘোষণা দেন আখাইলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ এবং কানাডা প্রবাসী আথানগিরি গ্রামের দেওয়ান গফরান চৌধুরী।

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র- সিআরপি। ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠাতা ড. ভেলরি এন টেলরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের দরিদ্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। বেশ কিছুদিন ধরে মৌলভীবাজারে স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি খুঁজছিলো প্রতিষ্ঠানটি। একটা পর্যায়ে যখন হতাশ হয়ে পড়ছিলো, ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন কিছু হৃদয়বান বড় মনের মানুষ।

সিআরপি’র প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ নারী ভেলরি এন টেলর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে এদেশের মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে ফান্ড রেইজিং প্রোগ্রাম করে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে, নারী পুরুষের স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে কাজ করছেন টেলর। তিনি মনে করেন একটিমাত্র জাগতিক জীবনে সকল মানুষের সকল সুযোগ নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তা নিশ্চিতকরণে সবাইকে কাজ করা উচিত।

মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিমবাজারে সৈয়দা মুজতবা আলী সড়কে ২০১১ সাল থেকে অস্থায়ী ভবনে সেবা দিয়ে আসছে সংস্থাটি। কুলাউড়া উপজেলার গোবিন্দপুরে ১৩.৫ একর জমির উপর সিআরপি’র আরেকটি কেন্দ্র রয়েছে।

সিআরপি যেসব রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকে: প্যারালাইসিস, স্ট্রোক, মেরুরুজ্জুতে আঘাত, সড়ক দুর্ঘটনা, মস্তিস্কের আঘাত, শিশুর জন্মগত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতা, হাড় জোড়া ও মাংসপেশির সমস্যা (কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, ঘাড় ও মাঝ পিঠের ব্যথা, আঘাতজনিত সমস্যা, হাত-পা ভাঙ্গার পরবর্তী জটিলতার সমাধান এবং বাত-জনিত ব্যথা), কথা বলতে ও বুঝতে সমস্যা, তোতলামি, কথা অস্পষ্টতা, কণ্ঠস্বরের সমস্যা, ঠোঁট ও তালুকাটা, ভুলে যাওয়া, খাবার চিবাতে ও গিলতে সমস্যা, সিজোফ্রেনিয়া, ডিমেনশিয়া, অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার ও বিষণ্ণতা  ইত্যাদি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত