০২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ০১:০৪
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০০৫ সালে স্থানীয়দের অনুদানে ৩১ শতক জায়গা নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। এসময় স্থানীয়রা একটি টিনশেডের ঘর তৈরী করে দেন। ২০১৪ সালের জুন মাসে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়।
তবে প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পরেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নতি হয়নি। নির্মাণ হয়নি কোন পাকা ভবন। নেই টয়লেটের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎসংযোগও নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক কাজ সাড়েন পাশের বাড়ির টয়লেটে গিয়ে। অনেক দিন আগে নির্মিত টিনশেডের ঘরটিরও করুণ অবস্থা।
টিনের ঘরের ৪ টি কক্ষের একটি অফিস কক্ষ ও অন্য তিনটি কক্ষে চলে ক্লাস। প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাবপত্রও নেই স্কুলে। বর্ষা মৌসুমে চাল দিয়ে পানি পড়ে। গরমের দিনে প্রচন্ড তাপদহে অতিষ্ঠ হয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। আর এমনই প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে প্রায় ১২৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রতিদিন ক্লাস করতে হচ্ছে এখানে। পাঠদানের অনুপযোগী শ্রেণীকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরের কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে।
এ কারণে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে অনেকটা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। এত সমস্যার মধ্যেও সরকারীকরণের পর ২০১৪ সাল থেকে স্কুলটির ছাত্র/ছাত্রীরা সমাপনি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তারেক আহমদ বলেন, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি উদ্যোগে পাকা ভবন রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি এখনো বঞ্চিত রয়েছে। বিদ্যালয়টি নামেই সরকারি হয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো লাগেনি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মালিক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি এমন সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা ও বিদ্যালয় নিচু হওয়াতে পানি জমে যায়। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে খুবই কষ্ট হয়। শ্রেণী কক্ষের সমস্যাতো আছেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওলিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষে সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাসে বসতে হয় । একসঙ্গে সব শ্রেণির পাঠদান করায় অনেকটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও টয়লেট না থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরই শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করছে। কিন্তু অবকাঠামোগত ভালো ব্যবস্থা না থাকায় অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে চায় না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই স্কুলটি আমি পরিদর্শনে যাবো। স্কুলের প্রাথমিক সমস্যাগুলো নতুন প্রকল্পের আওতায় এনে সমাধান করা হবে।
আপনার মন্তব্য