সাতছড়ি থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ১৫:৪৯

সাতছড়িতে আবার অস্ত্রের খনির সন্ধান

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে র‌্যাবের অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় অভিযানে ১০টি এন্টি ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের প্রধান মুফতি মাহমুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলা অভিযানে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ লঞ্চারগুলো ১৫ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থান পর্যন্ত কাজ করে। এছাড়া আর কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকাটি র‌্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের আরো জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী সাতছড়িতে র‍্যাব ইতিপূর্বে ছয়বার তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মর্টার সেল, রকেট লাঞ্চার, মেশিনগানসহ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‍্যাব। এর অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বাংকারের ভেতর থেকে চায়নার তৈরি টাইপ ৬৯ মডেলের রকেটগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ৪০ মিলিমিটার হাই এক্সপ্লোসিভ এ রকেটগুলো ১৫শ' মিটারের মধ্যে ট্যাংক বা গাড়ী ধ্বংস করতে সক্ষম।

তিনি আরো বলেন, রকেটগুলো সাধারণত দেশের কোন সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গোষ্ঠী ব্যবহার করে কিনা এমন কোন তথ্য নেই র‍্যাবের কাছে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদী কোন গ্রুপ এগুলো মজুদ করতে পারে বলে ধারণা র‍্যাবের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ওই এলাকাটিতে গোয়েন্দা নজরদারী থাকবে। দুষ্কৃতিকারীরা যাতে এই এলাকাকে ব্যবহার করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে র‌্যাব সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রেস ব্রিফিংকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৯ সিলেট ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ও বিমান চন্দ্র কর্মকার।

এ সময় হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম সামছুর রহমান ভূঁইয়া, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহমেদসহ র‌্যাব এবং পুলিশের শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সাতছড়িতে ৪ দফায় ৬বার অস্ত্র ও গোলাবারুদ পায় র‌্যাব। ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দফায় ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, ১টি বেটাগান, ৬টি এসএলআর, ১টি অটো রাইফেল, ৫টি মেশিন গানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১৬ অক্টোবর থেকে ৪র্থ দফার ১ম পর্যায়ে উদ্যানের গহীন অরণ্যে মাটি খুড়ে ৪র্থ দফায় ৩টি মেশিন গান, ৪টি ব্যারেল, ৮টি ম্যাগজিন, ২৫০ গুলির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, ত্রি নট ত্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত