১০ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৩৫
নির্ধারিত সময়ের পর দশ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো বেশিরভাগ হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় এবং নীতিমালা অনুসরণ না করে দুর্বল বাঁধ নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা।
শনিবার (১০ মার্চ) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এই ক্ষোভ জানানো হয়। মানববন্ধন চলাকালে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা'র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু'র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ সমিতি, সিলেটের সভাপতি এডভোকেট মো. রাজউদ্দিন, সিলেটস্থ ধর্মপাশা উপজেলা উন্নয়ন ফোরাম এর সভাপতি ডা. এম এ আমীন, সুনামগঞ্জ সমিতির সহসভাপতি কবির আহমদ, জগন্নাথপুর সমিতি, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার অর্থ সম্পাদক রজত সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কাশেম, তাহিরপুর সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল হাই মাস্টার, সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম খসরু, রজত সরকার, সাংবাদিক মাইদুল রাসেল, সজীব আহমদ রাসেল, সামাজিক ছাত্র সংগঠন আর সিএ'র সভাপতি আবুল বাশার জুয়েল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, গত বছর হাওরে ফসলহানির পর হাওরে ছুটে গিয়েছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের শীর্ষ মহল। আমরা আশা করেছিলাম এবার অন্তত সময় মত ও সঠিকভাবে হাওরের বাঁধ নির্মিত হবে। এ বছর হাওরের বাঁধে বরাদ্দও গত বছরের প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু আমরা হতাশার সাথে লক্ষ করলাম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র অর্ধেক বাঁধের কাজ হয়েছে। কিছু হাওরে বাঁধের প্রকল্পই নেওয়া হয়নি। আমরা চাই অতিসত্বর যেন নীতিমালা অনুযায়ী সকল বাঁধের কাজ শেষ হয়।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, আজ পর্যন্ত মাত্র ৬৫ ভাগ হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। ৯০ ভাগ বাঁধেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এমন অনেক হাওর রয়েছে যাতে বাঁধ নির্মাণের জন্য কোন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। যেসব বাঁধে কাজ হচ্ছে এর প্রায় সবগুলোতেই নিয়ম অমান্য করে ৫০ মিটারের কম দুরত্ব থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। এমনকি সঠিকভাবে কম্পেকশন করে মাটি বসানোও হচ্ছে না। এতে বাঁধ দুর্বল হচ্ছে। আমরা মনে করি পিআইসি সহ বাঁধ নির্মাণে জড়িতদের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে বাঁধ নির্মাণে এসব সমস্যা হচ্ছে। তাই যাদের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে সঠিকভাবে ও সময়মত বাঁধ নির্মাণ হয়নি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসাথে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
আপনার মন্তব্য