হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০১ জুন, ২০১৮ ২২:২৯

হবিগঞ্জে সাংবাদিককে মারধরের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

হবিগঞ্জে এক সাংবাদিককে মারধরের পর মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠেছে।

শুক্রবার ভোরে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জীবনকে আটকের করে ব্যাপক মারধরের পর ইয়াবার মামলায় আদালতে চালান করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার পুলিশ বলছে, জীবনই পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছেন। সিরাজুল 'হলুদ সাংবাদিক' বলেও মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার।

সিরাজুল ইসলাম জীবনের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার সেহরির আগে হবিগঞ্জ শহরের গরুর বাজার এলাকায় জীবনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় পুলিশ। দোকানে অবস্থানরত জীবনের ছোটভাই আজিজুল ইসলামের কাছে ইয়াবা পাওয়ার কথা বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে পুলিশ। তাকে বাঁচাতে জীবন ও তার বোন পারভীন আক্তার এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করে পুলিশ।

এরপর জীবন ও আজিজুলকে চোখবেঁধে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে বলে জানান তাদের বোন পারভীন আক্তার। এরপর তাদের থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন পারভীন।

শুক্রবার বিকেলে সদর থানার এসআই রকিবুল হাসান বাদী হয়ে ১০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের হবিগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় জীবনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো।

আদালত চত্বরে হাজির হওয়া সাংবাদিকরা জানান, আদালতে আনা হলে জীবন দাঁড়াতে পারছিলেন না। তার শরীরের পেছনের অংশে রক্ত জমাট বেঁধে লাল হয়ে ছিলো সহকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এসময় জীবন বলেন, আমাকে ও আমার ভাইকে পুলিশ বাসায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে চোখবেঁধে থানায় নিয়ে আসে। তারপর থানা হাজতে চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। একপর্যায়ে আমার পায়ুপথে উত্তপ্ত গলানো মোম ঢেলে দেয়।

তিনি বলেন, পুলিশের নির্যাতনের কথা কাউকে বললে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সদর থানার এসআই রকিবুল হাসান।

জীবন আরো বলেন, হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে রিপোর্ট করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় বালুখেকোরা। পরিকল্পিত ভাবে পুলিশের মাধ্যমে আমরা দুই ভাইয়ের উপর ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তুলেছে তারা।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সিরাজুল ইসলাম জীবন কোনো সাংবাদিক নয়। হলুদ সাংবাদিক। সে প্রেসক্লাবের সদস্যও নয়।

তাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ সুপার বলেন, জীবনের ভাইকে ইয়াবাসহ আটকের পর থানায় নিয়ে আসতে চাইলে সে পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরে তাকেও তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ সুপারের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে যমুনা টিভির হবিগঞ্জ প্রতিনিধি প্রদীপ দাশ বলেন, প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়া একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটি বাধ্যতামূলক কিছু না। জীবন সাংবাদিকই না হলে সে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করে কি করে?

এদিকে, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জের সাংবাদিকরা। শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এনিয়ে প্রতিবাদ সভা ও পরে সদর থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা।

এসময় তারা সদর থানার ওসি ইয়াছিনুল হক ও এসআই রকিবুল হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এসময় জেলা পুলিশের ইফতার বয়কট করা হয় এবং পুলিশের সব সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারা দাবী জানান অবিলম্বে জীবনকে মুক্তি ও দোষী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবে সাংবাদিক সমাজ।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

আলোচিত