জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ

০২ জুন, ২০১৮ ০১:৫৩

বৈষম্যহীন উন্নয়নের রূপকার প্রয়াত মেয়র সিরাজুল জব্বার

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বৈষম্যহীন উন্নয়নের রূপকার ছিলেন। পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বংশ গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে থেকে পৌরবাসীর জন্য কাজ করে গেছেন। অল্প সময়ে পৌরবাসীর কাছে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। অভিজাত পরিবারে জন্ম নিয়েও জনগণের কাছাকাছি থেকেছেন তিনি। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন।

গত ৩১ মে বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী।

প্রয়াত সিরাজুল জব্বার চৌধুরীর রাজনীতি অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক অঙ্গনেও ছিল তার সুখ্যাতি। সিরাজুল জব্বার চৌধুরী উপজেলার পৌর এলাকার রণকেলী উত্তর গ্রামে ১৯৪৯ সালে ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম আব্দুল জব্বার চৌধুরী ও মরহুম নজিবা খাতুন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান।

তিনি ১৯৬৫ সালে প্রাচীন বিদ্যাপীঠ এমসি একাডেমি থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি পাকিস্তানের করাচি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি মনোযোগী ছিলেন। একজন ভাল ফুটবলার হিসেবেও এলাকার তার সুনাম ছিল।

লেখাপড়া শেষে ব্যবসায় মনোযোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।

অল্প বয়সেই শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি এমসি একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজে প্রায় ৩০ বৎসর ধরে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে, রণকেলী মুহিউস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার, গোলাপকুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন।

ষাটের দশকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও তিনি কখনো ক্ষমতার লোভ করেননি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯০ সালে ২ নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হলে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী প্রথম পৌর প্রশাসক হন।

সবশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করেন। ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে অল্প সময়ে পৌরবাসীর কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। অপরিকল্পিত ড্রেনেজের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হত। বিশেষ করে পৌরসভার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত টিকরবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন পড়তেন দুর্ভোগে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরে তিনি এসব সমস্যা সমাধানে শততম ভাগ সাফল্য দেখান।

এছাড়াও পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে ডিপ টিউবওয়েল নির্মাণ করেন। নাগরিকদের প্রতিটি সমস্যা সমাধানে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

সিরাজুল জব্বার চৌধুরী গোলাপগঞ্জ পৌরসভাকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এছাড়াও গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর ফুটপাতের যানজট নিরসনেও অনেকটা সফল হয়েছিলেন।

জনগণের প্রিয় এই জনপ্রতিনিধির হার্টে ব্লক ধরা পড়লে গত ২৩ মে তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। এরপর থেকেই তিনি রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ডা. লুৎফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৩১ মে) বিকেলে না ফেরার দেশে চলে যান। মৃত্যুকালে এই সফল রাজনীতিবিদের বয়স ছিল ৬৯ বছর। সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ২ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক ছিলেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিরাজুল জব্বার চৌধুরীর বাল্যবন্ধু অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শামিম আহমদ চৌধুরী বলেন, স্কুলজীবন থেকেই তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। কারো কষ্ট দেখলে তিনিই সবার আগে এগিয়ে আসতেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত