০২ জুন, ২০১৮ ১৭:৪৩
হবিগঞ্জে সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বিধান ত্রিপুরা সহকারী এসপি রবিউল ইসলামকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
এছাড়াও তদন্ত কমিটি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
যদিও শুক্রবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সিরাজুল ইসলাম জীবন কোনো সাংবাদিক নয়। হলুদ সাংবাদিক। সে প্রেসক্লাবের সদস্যও নয়।
শনিবার এব্যপারে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের ফেসবুকে একটি ব্যাখা দেয়া হয়েছে। সেখানে লিখা হয়েছে- ‘দৈনিক প্রভাকর পত্রিকা ও চ্যানেল এস এর সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনের উপর নির্যাতন ও মিথ্যা ইয়াবায় গ্রেফতার সংবাদটির দৃষ্টি আকর্ষন করছি। বিষয়টি কোন ভাবে যাচাই-বাছাই না করে পরিবেশন করায় সাধারণ জনগণ বুঝতে না ফেরে কমেন্টস করছে।
প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আব্দুল আজিজ এর নিকট ইয়াবা ও গাঁজার তথ্য জানতে পেরে গ্রেফতার করতে যায়। পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলামসহ ২/৩ জন এসে জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের ইউনিফর্মের কলার ধরে টানে ও কিলঘুষি মারে- যা পুলিশ এসল্ট কেইস ও সরকারী কাজে বাধা দানের অপরাধ। পরবর্তীতে আব্দুল আজিজকে মাদক দ্রব্য মামলায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ চালান এবং সিরাজুল ইসলাম ও অন্যান্যদেরকে পুলিশ এসল্ট কেইস হতে বাধ দিয়ে শুধুমাত্র সরকারী কাজে বাধা দান মামলায় চালান দেওয়া হয়। এরপরও পুলিশের বিরুদ্ধে উত্তাপিত বিষয়াদি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ অটল। কোন স্বার্থান্বেষী মহল যাতে কোনধরণের বানোয়াট অভিযোগ তুলে সুযোগ নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সচেতনমহলকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
অন্যদিকে, জীবনকে নির্যাতনের প্রতিবাদ ও জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শহরে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি সাস্কৃতিক সংগঠন।
দুপুরে ডিসি কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক সংগঠন নাট্যমেলাসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সাংষ্কৃতিক সংগঠন হবিগঞ্জ নাট্য মেলার সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, সবুজ মেলা সংগঠনের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক কর্মী কামাল আহমেদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য