০৩ জুন, ২০১৮ ২২:২৭
ঈদকে সামনে সিলেট নগরীর আলোকসজ্জার নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রায় সকল ছোট-বড় বিপণিবিতান, ফ্যাশন হাউজগুলো ক্রেতা আকর্ষণের জন্য বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।
নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া এলাকায় গিয়ে গিয়ে দেখা যায় সব বিপনীবিতান, ফ্যাশন হাউসগুলো ভাসছে আলোকের ঝরনাধারায়। জিন্দাবাজারের সিলেট প্লাজা, সিটি সেন্টার, ব্লু-ওয়াটার শপিং সেন্টার, সিটি সেন্টার, আল হামরা, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ায় অবস্থিত বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঈদে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে আলোয় আলোয় সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে কুমারপাড়ার মূল সড়কের প্রায় পুরো অংশ জুড়েই বাহারি আলোকসজ্জা দেখা যায়। আর কাপড়ের দোকান ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে নিত্যনতুন কাপড়ের সমারোহ নিয়ে বসেছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে তারা তাদের সর্বাধুনিক ও সেরা কাপড়ের পসরা নিয়ে দোকান সাজিয়েছেন। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তাদের এবারের ঈদ আয়োজন।
অনেকেই আগেভাগে ঈদের কেনাকাটা শেষ করে ফেলতে আগ্রহী। কারণ শেষের দিকে দোকানগুলো ভিড় থাকে বেশি। আবার অনেকের পছন্দ রোজার শেষের দিকে বাজার করা। কারণ তাদের ধারণা ঈদের ভালো কালেকশনগুলো শেষের দিকে আসে। আবার অনেক ক্রেতা আছেন যারা ঈদের আগের রাতেই কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেকে আবার এখন ঘুরে ঘুরে দেখছেন ঈদের কালেকশন। রোজার শেষের দিকে কেনাকাটা করবেন।
কুমারপাড়ার এম এন ফ্যাশনের এডমিন কর্মকর্তা রনি চৌধুরী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখনো আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি জমে উঠে নি। এটা আমাদের নতুন শো-রুম। স্থান পরিবর্তন করে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের প্রত্যেকটা কাপড়ের আলাদা আলাদা ডিমান্ড (চাহিদা) আছে। আমাদের কালেকশনগুলো সমৃদ্ধ। লেডিস কালেকশনে আমাদের আছে থ্রি-পিস, টু-পিস, ওয়ান পিস। জেন্টস কালেকশনে আছে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট।
তিনি জানান, ওয়ান পিস ও টু-পিসের দাম ২০০০-৫৫০০ টাকা, থ্রি-পিস ও ফোর পিসের দাম ৪০০০-৫০০০ টাকা। আর বিভিন্ন ধরণের পাঞ্জাবির মূল্য রাখা হয়েছে ১২০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত। রোজার শেষের দিকে আরও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করেন তিনি।
মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতিমা মেহরিন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এবারের ঈদের কালেকশনে বেশি চলছে গাউন ড্রেস। তাই গাউন ড্রেসই এবার কিনলাম। তাঁর সাথে মিলিয়ে জুতাও নিয়েছি। এখন কিছু কসমেটিক্স ও জুয়েলারি কেনার বাকি। রোজার শেষের দিকে ভিড় বেশি থাকায় আমি আগেই শপিং করে ফেলি। ফ্যাশন হাউজগুলোর মধ্যে এবার আড়ংয়ের কালেকশনগুলো আমার ভালো লেগেছে।
ফ্যাশন হাউজ মাহার বিক্রয়কর্মী শেখ মো. বাদশাহ জানান, এবার আমাদের বিক্রি ভালোই হচ্ছে। শাড়ির মধ্যে কাতান শাড়িই চলছে বেশি। ৩ হাজার থেকে শুরু ৩০ হাজার টাকার কাতান শাড়ি আমরা বিক্রি করছি। দেশি শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইল, জামদানি, হাফ সিল্ক উল্লেখযোগ্য। এগুলোর দাম মান অনুযায়ী ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তিনি আরও বলেন, ড্রেসের কালেকশনের মধ্যে গাউন, সারারা, কারারা, অরগাঞ্জা উল্লেখযোগ্য। তবে এর মধ্যে গাউন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর মূল্য ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাছাড়া আমাদের আনরেডি থ্রি-পিস, কসমেটিক্স, জুয়েলারি, ছেলেদের পাঞ্জাবি, পাজামা, লুঙ্গি, বাচ্চাদের পোষাকও বিক্রি করে থাকি।
আপনার মন্তব্য