০৪ জুন, ২০১৮ ১৭:২৭
সড়কে বসতে না দেওয়ার ক্ষুব্দ হয়ে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে হকাররা। এসময় তারা নগর ভবনে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। হকাররা কয়েকটি যানবাহন ও দোকানেও ভাঙচুর চালিয়েছে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে। এসময় নগরভবনের কয়েকজন কর্মচারীকেও লাঞ্ছিত করে হকাররা।
জানা যায়, বন্দরবাজার এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছিল হকাররা। সম্প্রতি ঈদ মৌসুমে তারা সড়ক দখলও করে পণ্যের পসরা নিয়ে বসে।
সোমবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুটপাত দখল না করতে হকারদের আহবান জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকারদের একটি দল বিক্ষোভ শুরু করে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে বন্দরবাজার এলাকায় মিছিল করতে থাকে। সড়কে যান চলাচলেও বাধা দেয় হকাররা।
সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব ইদ্দিন শিহাব অভিযোগ করেন, মিছিল থেকে হকাররা নগর ভবনে হামলা চালায় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। মহানগর হকার্স লীগ সভাপতি আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে শতাধিক হকার এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ শিহাবের। এ সময় মেয়র আরিফ নগর ভবনে নিজের দপ্তরে ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এ সময় বাইরে বেরিয়ে আসলে শ্রমিকরা তাঁকে লক্ষ করেও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।
হকাররা সিটি করপোরেশনের হিসাব কর্মকর্তা ম আ ন ম মনছুফ ও আরো তিন কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করেছে বলেও জানান শিহাব।।
হামলার পর নগরভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হকারদের প্রতিহত করেন। এসময় হকাররা বন্দরবাজার এলাকা থেকে এসে জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। লাঠিসোটাসহ এই মিছিলের মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় তারা। এসময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে।
তবে হকার্স লীগ সভাপতি আব্দুর রকিব পাল্টা অভিযোগ করেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা তাকে মারধর করেছে। এ ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও মেয়রের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বন্দরবাজারে শো-ডাউন দিয়ে হকারদের ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিসিকের কর্মচারীরা ফুটপাতে না বসতে হকারদের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে নগর ভবনে হামলা চালায়। পরে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়।
মেয়র আরো বলেন, হকাররা নগরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের কারণে মানুষ ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারছে না। এ অবস্থা তো চলতে পারে না। নগরবাসীর স্বার্থে আমরা যা করার তা করবো।
আপনার মন্তব্য