১৪ জুন, ২০১৮ ০২:১৪
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জমি থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম ফরিদা বেগম (২৫)। বুধবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ফরিদা বেগম ওই গ্রামের খলকু মিয়ার মেয়ে।
সুরতহাল শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরিদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে বিকেলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) আবু ইউসুফ ও থানা অফিসার ইন-চার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের খলকু মিয়ার মেয়ে ফরিদা বেগমের সঙ্গে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার পাথারিপাড়া গ্রামের গৌছ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তিন বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাদের পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সে (কন্যা) তার বাবার (গৌছ উদ্দিন) সাথে থাকে। ফরিদা বেগম থাকতেন বাবার বাড়িতে।
স্বজনদের দাবি, গত মঙ্গলবার (১২ জুন) রাতে সেহরি খাওয়ার পর থেকে ফরিদাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বুধবার (১৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তাদের বাড়ির পূর্ব-উত্তর পাশের ক্ষেতের জমির কাদা-পানিতে উপুড় অবস্থায় ফরিদার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর মা। বিষয়টি তিনি বাড়িতে জানান। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে যায় উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।
লাশের সুরতহাল প্রস্তুতকারী উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াহেদ গাজী বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে লাশের নাকে ও মুখে রক্তের দাগ ছিল।’
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেবদুলাল ধর নারীর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে (ফরিদা বেগমকে) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর সেখানে (জমিতে) ফেলা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। প্রস্তুতি চলছে। নিকট আত্মীয় ও সন্দেহভাজন কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
আপনার মন্তব্য