নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুন, ২০১৮ ২১:৪২

নাজুক সড়কে সিলেটে কমেছে পর্যটক, শিলংমুখী ঢল

পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন সফিকুর রহমান। সোমবার মাইক্রোবাস করে জাফলং যান তাঁরা। তবে ভাঙ্গা সড়কের কারণে ভ্রমণের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে এই পরিবারের।

সফিকুর রহমান বলেন, সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। একেবারে নাড়িভুড়ি এক হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এমন জানলে সিলেট আসতাম না।

কেবল সফিকুর রহামনই নন। এমন অভিজ্ঞতা সিলেটে বেড়াতে আসা সব পর্যটকদেরই।
এমনিতেই ভাঙ্গাচোরা সড়কের কারণে এবার ঈদের ছুটিতে সিলেটে আশঙ্কাজনকভাবে কম এসেছেন পর্যটকরা। সংশ্লিস্টরা বলছেন, প্রত্যাশার ত্রিশ শতাংশ পর্যটকও এবার সিলেটে আসেন নি। আর যারা এসেছেন তারা ভাঙ্গা সড়কের কারণে পড়েছেন ভোগান্তিতে।
সিলেট-রাতারগুল সড়কের ভগ্নদশা

সিলেটে পর্যটকদের আগমন কমলেও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং অভিমুখে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে দলে দলে ভারতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। সোমবারও তামাবিল ইমিগ্রেশনে শিলংমুখী পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়।

সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে শিলং শহরের দুরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। কাছাকাছি দুরত্বের কারণে তামাবিল দিয়েই বাংলাদেশের যাত্রীরা শিলং গিয়ে থাকেন।

সিলেটের পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, ভারতীয় ভিসা সহজ হওয়া, সিলেটেরসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা, পর্যটকবান্ধব পরিবেশের অভাবে পর্যটকরা দেশের বদলে দীর্ঘ ছুটিতে ভারত পাড়ি জমাচ্ছেন।
তামাবিলের ওপারে ভারতের ডাউকি ইমিগ্রেশন সেন্টারে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এবার ঈদের ছুটিতে সিলেটে তুলনামুলক কম পর্যটক এসেছেন। সিলেটের জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, লালাখাল, পান্তুমাই, চা বাগানসহ সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রঘুরে দেখা গেছে, অন্যবারের তুলনায় এবার পর্যটক সমাগম কম। যারাও এসেছেন তাদের বেশিরভাগই স্থানীয় পর্যটক।

জানা যায়, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের অবস্থা তুলনামুলক ভালো হলেও সিলেট থেকে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে যাওয়ার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। সিলেট-জাফলং, সিলেট-রাতারগুল, সিলেট-বিছনাকান্দি- সবগুলো সড়কই ভাঙ্গাচোরা। তারউপর এবার বন্যার কারণেও কমেছে পর্যটক।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, সিলেট শহর থেকে সবগুলো পর্যটন স্পটে যাওয়ার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সড়ক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। এবার সিলেটে তেমন পর্যটক আসেননি।

তিনি বলেন, সড়ক ব্যবস্থার দুরাবস্থার কারণে কেবল পর্যটন শিল্প নয়, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
বিছনাকান্দিতে আগত পর্যটকরা

সিলেটের হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ঈদের ছুটিতে লক্ষাধিক পর্যটক সমাগমের আশা করেছিলেন তারা। তবে তার ৩০ শতাংশও পুরণ হয়নি। ভাঙ্গা সড়কের কারণেই পর্যটকরা সিলেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানান তারা।

সিলেট হোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিন আহমদ বলেন, আগে যেকোনো ছুটিতে সিলেটে পর্যটকদের ঢল নামতো। বেড়াতে এসে তারা কয়েকদিন সিলেটে অবস্থান করতেন। এখন শিলংয়ে যাওয়ার আসার ফাঁকে হয়তো এক রাত সিলেটে থাকছেন পর্যটনকরা, কিন্তু দীর্ঘ সময় এখানে অবস্থান করছেন তারা। এতে এখানকার উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।  

সিলেটের পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের সাবেক সদস্য ডা. জাকারিয়া আহমদ বলেন, সিলেটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নগরী থেকে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সিলেটে বেশ কিছু প্রাকৃতিক দর্শনীয় জায়গা থাকলেও সেসব এলাকায় কোনো অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। সিলেটকে মুখে মুখে পর্যটন নগরী বলা হলেও এখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি পর্যটকরা কোথায় কোথায় ঘুরতে যেতে পারেন, সেসব এলাকায় কিভাবে যাওয়া যাবে এসব সাধারণ তথ্য প্রদানেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে স্বভাবতই যাদের সামর্থ আছে তারা সুযোগ পেলেই প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলে যাচ্ছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, সিলেটের ভাঙ্গা সড়কগুলো সংস্কারে ১৪শ' কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামী জুনের মধ্যে সিলেটের সকল সড়কে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত