নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:১৭

অবশেষে নতুন বই পেল সেই দুই শিক্ষার্থী

নতুন ড্রেস না থাকায় মঙ্গলবার স্কুল থেকে নতুন বই দেওয়া হয় নি তাদের। সারাদেশের শিক্ষার্থীরা এদিন বই উৎসবে মাতলেও বই না পেয়ে কেঁদে বাসায় ফিরতে হয় নগরীর উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা ও খাদিজাকে। এনিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বুধবার সকালে এই দুই শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মুনতাকিন, সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোমান মিয়া ও দিপীকা রায় স্কুল পরিদর্শণ করেন।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি ছুটিতে থাকায় অন্যদের স্কুলে পাঠিয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন নতুন বই পায়, তা আগেই সংশ্লিষ্টদের বলে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মুনতাকিন বুধবার স্কুলে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সবার বই পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে খাদিজার মা খায়রুন বলেন, বুধবার সকালে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে তার মেয়েকে নতুন বই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের নতুন ড্রেস দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গোলাম মোস্তফার মা ফরিদা তার ছেলেকে বই দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তারা স্কুল সংলগ্ন তেররতন বস্তির বসবাস করেন।

খাদিজা ও গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে মামা-ভাগনী। খাদিজার বাবা ছোট মিয়া এক হাত নেই বলে স্বাভাবিক কাজ করতে পারেন না। অন্যদিকে মোস্তফার বাবা বদরুল ইসলাম পক্ষাঘাতগ্রস্থ। ফলে তাদের মায়েরা বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। খাদিজার মা খায়রুন জানিয়েছেন, তিনি নগরীর উপশহরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোয়ার্টারে দুই কর্মকর্তার বাসায় কাজ করেন। গোলাম মোস্তফার মা ফরিদাও এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় কাজ করেন।

খাদিজা জানায়, সে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম হয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে উঠেছিল। তবে এবারে সে স্কুলের মেধাতালিকায় ১৫ নম্বরে স্থান পেয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে উঠেছে। অন্যদিকে গোলাম মোস্তফা স্কুলের মেধা তালিকায় ৩৩ নম্বর হয়েছে। খাদিজা মা-বাবার একমাত্র সন্তান হলেও মোস্তফা পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই।

ফরিদা জানান, ছেলে পড়াশোনা করে বড় হয়ে সংসারের অভাব দুর করবে- এই স্বপ্ন দেখেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত