০২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২১:৫৯
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল গ্রামের রুশন মিয়া (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
রোববার (৩০ ডিসেম্বর) ঘটনাটি ঘটলেও পরদিন সোমবার কমলগঞ্জ থানায় রুশন মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত নির্যাতিতার মা অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি জানাজানি হয়
ধর্ষণের শিকার ছনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীটি বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত রুশন মিয়া ভানুবিল গ্রামের মৃত কলিম মিয়ার ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে বুধবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে জানা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভানুবিল গ্রামের মৃত কলিম মিয়ার ছেলে মুরগী ব্যবসায়ী রুশন মিয়া গত রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টায় শিশুটি (১০) একা পেয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী কামারছড়া রাবার বাগানের নির্জন স্থানে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
পরে গ্রামবাসীরা ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে পরিবার সদস্যদের নিয়ে থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে মৌলভীবাজারে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ঘটনার পরপরই রুশন মিয়া পালিয়ে যায়।
পরে সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) নির্যাতিতা ছাত্রীর মা (ছালাতুন বেগম-৪৫) বাদি হয়ে রুশন মিয়াকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। গত মঙ্গলবার কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক দাম মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার সাথে কথা বলে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল ভানুবিল গ্রামে তদন্ত করেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক দাম ধর্ষণ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরেজমিন প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন বাকি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন।
বুধবার নির্যাতিতার মা সালাতুন বেগম জানান, তিনি নির্বাচনের আগের দিন বিকেলে আনসার সদস্যা হিসেবে আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঘটনাটি শুনে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর রুশন মিয়া আমাদেরকে ৫০ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির জন্য জোর অনুরোধ করে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রুশন মিয়া আমাদের বাড়িঘর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। ধর্ষণকারী এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা আতংকিত। সে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান থানায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জোর পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্তক্রমে কঠোর হস্তে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য