নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ আগস্ট, ২০১৫ ০২:৪৩

ভুয়া সাংবাদিক পুলিশের সোর্স, তাই মুক্ত

সাংবাদিক পরিচায়দানকারী প্রতারক এনাম আহমদ পুলিশের সোর্স হওয়ায় ছেড়ে দিয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ সুরমা থানায় মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি বাসুদেব বনিক, এডিসি জেদান আল মুসা, দক্ষিণ সুরমা থানার এসি মো. রফিকুল ইসলাম ও ওসি এস এম আতাউর রহমানের উপস্থিতিতে এনামকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এসময় এসএমপি পুলিশের ডিসি বাসুদেব বনিক সার্টিফিকেট চক্রকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য প্রতারক এনামকে পুরস্কৃত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি এনটিভির ভূয়া আইডি কার্ড এনামের পকেটে ছিল, সে প্রদর্শিত করেনি বিধায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এমনটাও জানান তিনি।
এর আগে এনটিভির সিলেট ব্যুারো ইনচার্জ মঈনুল হক বুলবুল দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি বরাবর এনামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন জানান।

আবেদনে বুলবুল উল্লেখ করেন, এনটিভির মানব উন্নয়ন ও প্রশাসন বিভাগ তাকে জানিয়েছে এনাম আহমদ নামে সিলেটে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। সে ভূয়া পরিচয়পত্র বহন করছিল। তিনি বলেন, এর আগেও একইভাবে কথিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্নস্থানে এনটিভির পরিচয়ে টাকা দাবিসহ বিভিন্ন বেআইনী কর্মকান্ড সম্পাদনের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু যথেষ্ট তথ্য প্রমানের অভাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দ্বারস্থ হওয়া যায়নি।

বুলবুল লিখিত অভিযোগে বলেন, প্রতারক এনাম বেআইনীভাবে জনসাধারণকে হয়রানী ও এনটিভির মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান।
এনটিভি কর্তৃপক্ষের আবেদন দক্ষিণ সুরমা থানার ডিউটি অফিসার বোরহান উদ্দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় গ্রহণ করেন। এরপর পরই ১টার দিকে এনামকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে, ৮টি ভূয়া সার্টিফিকেট উদ্ধারের ঘটনায় আটক গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের নিজতফা গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মাহতাব আহমদ ও একই এলাকার বেলায়েত হোসেন সবুজের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
পুলিশ ডিসি বাসুদেব বনিক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ৮টি ভূয়া এসএসপি ও এইচএসসি সার্টিফিকেটসহ মাহতাব নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে ধরিয়ে দেয় তাদের সোর্স এনাম।

পরে এনামকে কদমতলী থেকে সিটি কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপনসহ আটক মাহতাবের আত্মীয়স্বজন অপহরণ করে কাউন্সিলর অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে এনামকে মারধর করা হয়। এ ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এনামকে উদ্ধার করে থানায় নিরাপদে রাখে। পরে আজ দুপুরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতারক এনামের ফাঁদে পড়ে ভূয়া সার্টিফিকেটসহ আটক হয় সিএনজি চালক মাহতাব। পরে এনামই মাহতাবের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এছাড়া এনাম নিজেকে এনটিভি’র বিশ্বনাথ প্রতিনিধি বলেও দাবি করে। এসময় তার কাছে এনটিভি’র একটি পরিচয়পত্রও পাওয়া যায়।

এনামের আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় কাউন্সিলর লিপন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আতাউর রহমান ও এনটিভির সিলেটের ব্যুারো প্রধান মঈনুল হক বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তার সাংবাদিক পরিচয় ভূয়া এবং পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপস্থিত জনতা এনামকে উত্তম মধ্যম দেন। পরে দক্ষিণ সুরমা থানার এএসআই জিতেশ কুমার দাসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে এনামকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে সে লকাপে ছিল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। পরে পুলিশের সোর্স হওযায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত