১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ০০:০৭
গত ১০ জানুয়ারি রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগী বাজার থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মাদক ব্যবসায়ী সুহেল আহমদকে (৩০)। গ্রেপ্তারের পর গাড়িতে তোলার আগেই পুলিশকে পিটিয়ে আহত করে পুলিশের জ্যাকেটসহ সুহেলকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগীরা।
ওইদিন রাতে সুহেলকে প্রধান আসামিসহ আরও ৩০জনকে অভিযুক্ত করে থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করেন আহত হওয়া এসআই সবুজ কুমার নাইডু (মামলা নং ১০)। ঘটনার পরদিন শুক্রবার ভোরে রহমান নগরের কয়ছর আহমদ (৩০) ও তার ভাই জাকির আহমদকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এরই মধ্যে এ দু’জনকে রিমান্ডেও আনা হয়েছে। অথচ এ ঘটনার দীর্ঘ এক মাসেও নওধার গ্রামের করিম বক্সের ছেলে মাদকব্যবসায়ী সুহেলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুহেলের অবস্থান জানা থাকলেও নিজেদের সোর্স হওয়ায় সুহেলকে ধরছে না পুলিশ।
তবে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ শর্ম্মা এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুহেল আগে সোর্স ছিল, এখন নয়। তাছাড়া সুহেলসহ মামলার অন্য আসামিরাও এলাকা ছাড়া। তাই সুহেলসহ অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন থেকে পুলিশের সোর্সের কাজ করছে সুহেল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ছাবাল শাহ্’র মাজারের ওরসকে ঘিরে শুরু করে মাদক ব্যবসা। প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে ওরসের নামে চালে মাদক আর অসামাজিক কর্মকান্ড।
এ কর্মকান্ড থেকে রেহাই পেতে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই সুহেলসহ তার সাঙ্গপাঙ্গকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন ছাবাল শাহ্’র কলেজে পড়ুয়া মেয়ে তাছলিমা বেগম (সিআর নং ২১৩/১৮)। এর ১২দিন পর ১৯ জুলাই একইভাবে বিশ্বনাথ থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তাছলিমা। সোর্সকে রক্ষার্থে তদন্তের নামে থানা পুলিশ মামলাটি রজ্জু না করে দীর্ঘ ৫মাস ২০দিন আটকে রাখে। পরে নিরুপায় হয়ে তাসলিমা পুলিমের উর্ধততন কর্মকর্তাদের নিকট আবেদন করেন। পরে চলতি বছরের ১০জানুয়ারি বিকেলে মামলা রজ্জু করা হয় (মামলা নং ৯)। আর ওইদিন রাতে সুহেলকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে মার খেয়ে ফিরতে হয় তাদের।
আপনার মন্তব্য