হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০৮ আগস্ট, ২০১৫ ১৬:৪৬

হবিগঞ্জে কলেজ ফটকে ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ছেলে সুমন মিয়া লেখাপড়া করে পরিবারের দারিদ্রতা ঘুচাবে এই স্বপ্ন ছিল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক মুখলেছুর রহমান ও নুরুন্নাহারের। অতিকষ্টে টাকা জোগাড় করে তাকে ভর্তি করিয়েছেন হবিগঞ্জ শহরতলীর শচীন্দ্র ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর মানবিক শাখায়। শহরে থাকার কোন সংস্থান না থাকায় উমেদনগর গ্রামে আত্মীয় আব্দুর রউফের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন তারা।

মাত্র ৮ দিন আগে সুমন গ্রামের বাড়ি থেকে আসে কলেজে ক্লাশ করবে বলে উমেদনগর আসে। কিন্তু শনিবার কলেজে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ দিতে হয়েছে সুমনকে। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় মুখলেছুর রহমান ও নুরুন্নাহার।

শনিবার সকালে শচীন্দ্র ডিগ্রী কলেজে সুমান মিয়ার সাথে তার সহপাঠী মফিজুর রহমানের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্যরা মিটমাট করে দেন। বেলা ১১টার দিকে সুমন কলেজের ফটকের কাছে পৌঁছামাত্র সকালের ঘটনার জের ধরে ৮/১০ জন সহপাঠী তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে তাদের অস্ত্রের কুপে সে গুরুতর আহত হয়।

এসময় কয়েকজন ছাত্র মিলে তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার কোমরের কাছে একটি আঘাত রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে। হাসপাতালে সুমন মিয়ার মৃতদেহ দেখতে যান কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এমপি ও সদস্য শরীফ উল্লাহসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সুমন মিয়ার মৃত্যুর খবর কলেজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কলেজ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়র অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাজিদুর রহমান ও বানিয়াচং থানার ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

সুমন যে বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন সেই বাড়ির গৃহকর্তা ও তার চাচা আব্দুর রউফ জানান, সুমন শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। শনিবার সকালে নাস্তা তৈরিতে দেরি হওয়ায় সে কিছু না খেয়েই কলেজে চলে যায়। তার আর কোন দিন খাওয়া হবে না। এই কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবল চৌধুরী জানান, কলেজের ১৮ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। কলেজটি রাজনীতি মুক্ত হওয়ার পরও কেন এ ঘটনা ঘটেছে তা উদঘাটনের জন্য চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত