২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৫৫
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত হওয়ায় সিলেটের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগমকে সংবর্ধনা দিয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ পরিবার। তিনি ওই কলেজের ১৮ তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।
শনিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় বক্তারা বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম দরিদ্র শিশুদের সফল চিকিৎসা দিয়ে মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তিনিই প্রথম হৃদরোগ আক্রান্ত শিশুর বাল্ব বিনা অপারেশনে স্থাপন করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসার কারণেই তিনি দিন দিন সাফল্যের শিখরে অবস্থান করছেন।
বক্তারা আরও বলেন, নুরুন্নাহার ফাতেমা একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা হয়েও জনসাধারণের সাথে অতিসহজে সাধারণভাবে মিশে গিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দরিদ্র শিশুদের বিনা টাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এটা সকল চিকিৎসক সমাজকে অনুসরণ করা উচিত। চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মানবতা ও সেবাই পারে একজন মানুষের জীবনকে বাঁচিয়ে দিতে। বক্তারা বলেন, এই কলেজের প্রাক্তণছাত্রীর এই গৌরবময় পুরস্কার প্রাপ্তিতে ওসমানী মেডিকেল কলেজও গৌরবান্বিত হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মমিনুল হকের সভাপতিত্বে ও শিক্ষানবীশ চিকিৎসক রাজিব বৈষ্ণবের পরিচালনা এতে বক্তব্য রাখেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগমের স্বামী কর্নেল (অব.) ডা. মো. আজহার উদ্দিন, ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ নন্দ কিশোর সিংহ, কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এএফএম নাজমুল ইসলাম, শিশুরোগ বিভাগের প্রধান ডা. প্রভাত রঞ্জন দে, ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. আনসার খান, হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. শাহাব উদ্দিন সরকার, চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক রফিক উদ্দিন খান, গাইনী বিভাগের প্রধান নাসরিন আক্তার। শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ডা. মো. আরাফাত, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আদনান মাহমুদ তামিম ও সোহেলি হাসান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মানপত্র পাঠ করেন নূর এ ঐঞ্জিলা। পরে সংবর্ধিত অতিথির হাতে মানপত্র, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম বলেন, চিকিৎসকরা এমন একটি পেশায় কাজ করেন, তারা চাইলেই আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না। কোনো সুখবরে যখন তখন হাসতে পারেননা। তাদের কাছে সবার আগে রোগির জীবন। একটা জীবনও যদি একজন চিকিৎসক সেইভ করতে পারেন তখনই তিনি হিরো। চিকিৎসা পেশা হচ্ছে মানবতার সেবার অপরনাম।
নিজের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তির সু-খবরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, আমাকে যখন জানানো হলো আমি স্বাধীনতা পদকে মনোনীত হয়েছি, এতে আমার কোনো আপত্তি আছে কি-না? তখন আমি বললাম এটা গৌরবের আপত্তি করব কেন। এ কথা বলে মন্ত্রীপরিষদের ফোনটি রাখার পরই আমি জানতে পারি সিএমএইচ-এ ভর্তি একটি শিশুর অবস্থা খারাপের দিকে তাৎক্ষনিক আমি সেখানে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আরও দুটি বাচ্চার অবস্থাও খারাপ। তাই আনন্দের এই খবর কাউকে না বলেই শিশুগুলোর জীবনরক্ষায় সহকর্মীদের নিয়ে চিকিৎসা শুরু করি। এতক্ষনে অন্যসহকর্মীরা টিভি স্কলে বিষয়টি জানতে পেরে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। প্রায় ঘন্টা খানেক পর আমার সাথে কাজ করা চিকিৎসকরা আমার পদক প্রাপ্তির খবর জানতে পারেন। তখন আমি তাদের বলেছিলাম তখন আনন্দের খবর ভাগাভাগির সময় ছিল না। তাই বলিনি। তিনি বলেন, এভাবে চিকিৎসকদের আবেগককে ধরে রেখে রোগির জীবনরক্ষায় সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।
আপনার মন্তব্য