নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:৪৯

হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২৫

সিলেটে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার মিছিলে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।

সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দাবিদার আরিফুল ইসলাম জানান, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর তালতলাস্থ জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে প্রচার মিছিল বের করি আমরা। মে দিবস উপলক্ষে বের হওয়া এই মিছিলটি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আসার পর প্রতিপক্ষরা হামলা চালায়। এতে ২৫ জন আহত হন। সাদেক মিয়া, ময়না মিয়া, আলী হোসেন, জাকির হোসেন আর আনসার আলীর নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। এরা গত বছরও আমাদের ওপর হামলা করেছিল।’

তিনি জানান, হামলায় আহতদের মধ্যে আরিফুল ইমলাম, রফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, ফজলু মিয়া, হারুনুর রশিদ, আকির হোসেন, জায়েদ আহমদ, রিনা খাতুন, হালিমা আক্তার, রাবেয়া আক্তার, মোজাম্মেল আলী, পাবেল মিয়া, আলী হোসেন প্রমুখ রয়েছেন।

তিনি জানান, ‘সাদেক, ময়না, আলী, জাকির ও আনসার এরা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্বে ছিল। দুর্নীতির দায়ে ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে এরা আমাদের বিরুদ্ধে অপতৎপরতায় লিপ্ত। বর্তমানে এরা বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং-২০৩৭) নামক সংগঠনের সাথে জড়িত।’

আরিফুল ইসলাম আরো জানান, ‘আজ হামলায় আমাদের ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’

সাদেক মিয়া বলেন, ‘জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান বৈধ সভাপতি আমি। আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং-২০৩৭) এর অন্তর্ভুক্ত। আমি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সফর আলী, আরিফুল ইসলাম, পিন্টু, উজ্জ্বল, জমির, ইউসুফ, হারুনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করি আমরা। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। আজ তাদের নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে আমাদের প্রচার মিছিলে। হামলায় আমাদের জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আনসার আলীসহ ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিয়া সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, 'ঘটনাটি আমি শুনেছি। তাদের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ব্যাপারটি আমাদের অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন ।'


আপনার মন্তব্য

আলোচিত