১৫ আগস্ট, ২০১৫ ১৯:৫৮
বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুনাম উদ্দিন তারই পরিষদের সদস্যদের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন। সরকারী বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজে চরম অনিয়ম আর লুটপাটের নজরদারী ও প্রতিবাদ করায় পরিষদের ৯ মেম্বার তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন।
১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে ৭নং তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান সুনাম উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ৯ মেম্বারের উত্থাপিত নানা অভিযোগের ব্যাপারে তার অবস্থান স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি পরিষদের সদস্যদের ষড়যন্ত্রের শিকার। তাদের অনিয়মের সমর্থন না করায় ও প্রতিবাদ করায় তারা আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদান করেছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ সদস্যদের মাঝে সঠিকভাবে বন্টন করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ অভিযোগ করেন কর্মসৃজন, টি,আর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
সরেজমিনে জনগণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। আমি এসব অনিয়মের সত্যতা পেয়ে সদস্যদের ডেকে নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করার তাগিদ দেই। কিন্তু তারা আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। গত ১৪ জুলাই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৮৭৫ জন দুস্থকে বিতরণের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্ধ পাওয়া যায়। ১৫ জুলাই চাল বিতরণ করা হবে বলে ইউপি সদস্যদের জানানো হয়। কিন্তু ১৫ জুলাই সকালে অফিসে গিয়ে দেখি ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম আমাকে না জানিয়ে তাহার বরাদ্ধকৃত চাল বিতরণ করছেন।
এ সময় ইউনিয়নে চাল নিতে আসা ৮-১০ জন লোক অভিযোগ করে বলেন, আমরা চাল নিতে এসেছি। কিন্তু ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও ইউপি সদস্য আমাদের জনপ্রতি ৮ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ওজন করে অভিযোগের সত্যতা পাই। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যগণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আমাকে সরানোর জন্য অনাস্থা প্রস্থাব দেয়ার হুমকি দেন। পরে অনিয়মে জড়িত এসকল সদস্য তাদের অনিয়ম ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তালিমপুর ইউপির বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মুফছিল আলী, সুলেমান আহমদ, হাবিবুর রহমান, ফয়জুর রহমান, রিয়াজ উদ্দিন প্রমূখ।
আপনার মন্তব্য