২৬ মে, ২০১৯ ১৫:২৭
গত এপ্রিলে দশ দিনের ব্যবধানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে দুটি আগর গাছ চুরির পর সম্প্রতি আবার বনকর্মীদের আটকে রেখে আগর গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যদের মাঝে সৃষ্ট বিবাদে পরিকল্পিতভাবে আগর গাছ চুরি করার তথ্য (মুঠোফোনের অডিও রেকর্ড) ফাঁস হয়েছে।
বুধবার (২২ মে) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব তথ্য প্রকাশ পায়।
এ সভায় মুঠোফোনের অডিও রেকর্ড জব্দ করা হয়। এসময় বনকর্মী মোক্তার মিয়াকে মারধর করায় সিপিজি সদস্য মহসিন মিয়া, সুফি মিয়া, সেলিম মিয়া ও জহির মিয়াকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।
জানা যায়, কমলগঞ্জের বাঘমারা বন ক্যাম্পের বনকর্মীদের ঘরে আটকে গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রেখে একটি আগরগাছ কেটে খণ্ডাংশ করে নিয়ে গিয়েছিল চোর চক্র। পরদিন শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘এবার বনকর্মীদের আটকে রেখে আগর গাছ চুরি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ আগর গাছ চুরির তথ্য উদঘাটনে জোর তৎপরতা শুরু করে। তথ্য উদঘাটনে গিয়ে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা কমিটি জানতে পারে ঘটনার রাতে বাঘমারা বন ক্যাম্পে আটক থাকা কর্মী মোক্তার মিয়ার সাথে সিপিজি সদস্য মহসিন মিয়া ও সুফি মিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের এক পর্যায়ে সুফি মিয়া বনকর্মী মোক্তার মিয়াকে মারধর করে। এ ঘটনার পর বেরিয়ে আসে আগর গাছ চুরির মূল তথ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বনকর্মী জানান, সিপিজি সদস্য সুফি মিয়ার ভাই আলাল মিয়া এ আগর গাছ চুরির সাথে যুক্ত। সিপিজির সদস্য মোক্তার মিয়া ও মহসিন মিয়ার সাথে আগরগাছ চোরদের মুঠোফোনে একাধিকবার কথা হয়েছে। এ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। এ বনের গাছ চোরদের সাথে অনেক বনকর্মীদের সখ্য রয়েছে।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে জানা যায়, এর ১০ দিনে আগে লাউয়াছড়া বন বিশ্রামাগারের সামন ও রেলপথের ধার থেকে দুটি আগার গাছ চুরি হয়েছিল তার সাথেও অসাধু বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যদের একটি অংশ জড়িত ছিল।
বরখাস্ত হওয়া সিপিজি সদস্য মহসিন মিয়া বলেন, জাতীয় উদ্যানের বেত নিয়ে বনকর্মী মোক্তার মিয়ার সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুফি মিয়া মোক্তার মিয়াকে মারধর করেছিল। এ ঘটনায় তাদের চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, বাঘমারা বন ক্যাম্প এলাকা থেকে সম্প্রতি চুরি হওয়া আগর গাছ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের হয়েছে। এ মুহূর্তে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এতে বনকর্মী ও বা সিপিজি সদস্য জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য