১৭ আগস্ট, ২০১৫ ০১:৩৯
একমাস আট দিনেও প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে ফেরাতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু সামিউল আলম রাজনের বাবা আজিজুর রহমান।
রবিবার (১৬ আগস্ট) কামরুলকে পলাতক দেখিয়েই আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করে পুলিশ।
অভিযোগপত্র প্রদানের পর এক প্রতিক্রিয়ায় আজিজুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন ঈদের পরই কামরুলকে ফিরিয়ে আনা হবে। অথচ এখন পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনা গেলো না।
তিনি বলেন, কামরুলকে দেশে এনে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হলেই আমরা ন্যায় বিচার পাবো।
রাজনের বাবা বলেন, পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেছে বলে শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের সাথে কোনো যাগাযোগ করা হয়নি। অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়নি।
রোববার বিকেলে ১৩ জনকে আসামী করে আলোচিত এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার।
রাজন হত্যার এক মাস ৮ দিন পর এ অভিযোগপত্র প্রদান করা হলো।
সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র রহমতউল্লাহ অভিযোগপত্র প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিলেট মহানগর হাকিম ফারাহানা আলমের আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে।
আগেই গ্রেফতার হওয়া মুহিত আলম, আলী হায়দার, রুহুল আমিন, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ময়না, আয়াজ আলী, বাদল, ফিরোজ ও আছমত আলীকে অভিযোগপত্রে আসামী করা হয়েছে।
এছাড়া মুহিতের ভাই শামীম আহমদ ও প্রত্যক্ষদর্শী পাভেলকে নতুন অভিযোগপত্রে আসামী করা হয়েছে। আসামী করা হয়েছে সৌদি আরবে আটক থাকা কামরুল ইসলামকেও। অভিযোগপত্রে কামরুল, শামীম ও পাভেলকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
রহমতউল্লাহ জানান, এই ঘটনায় গ্রেফতার থাকা মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম ও শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবুলসের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের আসামী করা হয়নি।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাওয়ে নৃশংস নির্যাতনে খুন করা হয় শিশু রাজনকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তবে এ হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে আটক হলেও তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। কামরুলকে পলাতক দেখিয়েই অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়।
আপনার মন্তব্য