নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ আগস্ট, ২০১৫ ২০:১০

কর্মশালায় তথ্য প্রকাশ: ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নগরীর ৫২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে

সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা বিবেচনায় এনে সিলেট সিটির জন্য দুর্যোগ পরবর্তী ধ্বংসাবশেষ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ‘সিলেট সিটির জন্য ধ্বংসাবশেষ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়।

নগর ভবন মিলনায়তনে সকাল ১০ টায় এই কর্মশালা শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় সমাপ্ত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। প্রকল্পের বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ইসা ফরাজী।

কর্মশালায় জানানো হয়, সিলেটে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৫২ হাজার ১শ ৭৬টি ভবন একেবারেই ভেঙে পড়বে। আর এসব ভবনের ধ্বংসাবশেষ বা অবকাঠামো অপসারণ কাজের জন্য প্রয়োজন হবে ৭ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ট্রাক। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য তুলে ধরে জানানো হয়, একটি ভয়াবহ দুর্যোগের পর বিল্ডিংয়ের বা বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ কিভাবে দ্রত অপসারণ করা হবে এবং নগরীর কোন কোন জায়গায় তা সাময়িকভাবে ডাম্পিং করা হবে এবং কিভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনর্বাসন করে জনজীবন পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা যাবে এসব পরিকল্পনা প্রণয়ন করাই হচ্ছে এই প্রকল্পের মূখ্য উদ্দেশ্য।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার যেসব যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহন করেছে তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হচ্ছে ডেবরিস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান। সারাবিশ্বে এই ধরনের ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান আছে হাতেগোনা। ঢাকার বাইরে চট্রগ্রাম ও সিলেট সিটির জন্য এই প্ল্যান তৈরী করা হচ্ছে। কর্মশালায় আরও জানানো হয় এই পরিকল্পনা প্রকল্পে যাতে বিশ্বমান বজায় থাকে সেজন্য সেজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করেছে সরকার। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বিপদ যখন আসবে তখন প্রস্তুতি না নিয়ে বিপদের পূর্বেই সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমসহ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর ও দ্রত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এইডেন শর্ট, ইউএনডিপি’র বিশেষজ্ঞ জ্ঞানাঞ্জন পান্ডা ও ওয়াহিদুর রহমান। কর্মশালায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজিক মিয়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম আবজাদ হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিকন্দর আলী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সন্তু,১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকের, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জল, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: মুসতাক আহমদ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক বকস, সংরক্ষিত ১ আসনের কাউন্সিলর কোহিনুর ইয়াসমিন ঝর্ণা, সংরক্ষিত ২ আসনের কাউন্সিলর জাহানারা খানম মিলন, সংরক্ষিত ৩ আসনের কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সংরক্ষিত ৫ আসনের কাউন্সিলর দিবা রাণী দে, সংরক্ষিত ৬ আসনের কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, সংরক্ষিত ৭ আসনের কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন, সংরক্ষিত ৮ আসনের কাউন্সিলর সালেহা কবীর শেপী, সংরক্ষিত ৯ আসনের কাউন্সিলর এডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ।

আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের সচিব রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর আজিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুধাময় মজুমদার, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোঃ শরীফুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হোসেন সরকার, ডেপুটি সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সাহিদুর রহমান, জালালাবাদ গ্যাস এর সহকারী প্রকৌশলী শামসুল আরেফীন, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রুহুল আলম, প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আ ন ম মনছুফ, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. হানিফুর রহমান, সীমান্তিক পরিকালক পারভেজ আলম, ইসলামিক রিলিফ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শাহ সাহিদ আহমদ, বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সম্পাদক শাহনুর হোসেন, গার্লস গাইডস সিলেট জেলা শাখার কমিশনার সাহানা জাফরীন রোজীসহ আরও অনেকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত