বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

১৮ আগস্ট, ২০১৫ ১৭:৩৪

বিয়ানীবাজারে ঐতিহাসিক নানকার কৃষক বিদ্রোহ দিবস পালিত

গভীর শ্রদ্ধা ও ফুলেল ভালোবাসায় বিয়ানীবাজারে ঐতিহাসিক নানকার কৃষক বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীর তীরবর্তী সানেশ্বর উলুউরির মধ্যবর্তী স্থানে নানকার কৃষক বিদ্রোহে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটি দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

৬৬তম ঐতিহাসিক নানকার কৃষক বিদ্রোহ দিবসে স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শহিদপরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একত্রিত হয়।

পুষ্পার্ঘ অর্পণ পরবর্তী সকাল ১১টায় বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ শহীদ মিনারে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড (বিসাক)’র নাট্যকর্মীরা পরিবেশন করবে নানকার কৃষক বিদ্রোহ আন্দোলনের উপর নাটক ‘বিদ্রোহী নানকার’। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড’র সভাপতি আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এবং ছালেহ আহমদ শাহীনের সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কবি তারিকুল ইসলাম, কবি ফজলুল হক, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফয়সাল।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট নানকার কৃষক বিদ্রোহে রজনী দাস, ব্রজনাথ দাস চটই, প্রসন্ন কুমার দাস, পবিত্র কুমার দাস, অমূল্য কুমার দাস, কুটুমণি দাস শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারাÑ নানকার কৃষক আন্দোলনসহ বাঙালি জাতির সকল কৃষক বিদ্রোহ পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভূক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা ক্রমাগত ইতিহাস লালন থেকে বিমূখ হয়ে পড়ছি যা মোটেই সমীচিন নয়। তাঁর বলেন Ñআমাদের শেকড় জানতে হবে। পাক শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হওয়ার খোরাক যুগিয়েছিলো এসব কৃষক আন্দোলন। এসব আন্দোলন দৃষ্টির বাইরে রাখলে বাঙালির ইতিহাস ম্লান হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৭ সালের ঘৃণ্য নানকার প্রথা রদ ও জমিদারি ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগস্ট বিয়ানীবাজার উপজেলার সানেশ্বর উলুউরি গ্রামের সুনাই নদীর তীরে পাকিস্থান ইপিআরের ছোড়া গুলিতে প্রাণ দেন ৬ বীর সেনা রজনী দাস, ব্রজনাথ দাস চটই, প্রসন্ন কুমার দাস, পবিত্র কুমার দাস, অমূল্য কুমার দাস, কুটুমণি দাস: আহত হন অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় আন্দোলনে উত্তাল হয় সারা দেশ। অতঃপর ১৯৫০ সালে প্রবল আন্দোলনের মুখে সরকার জমিদারী প্রথা বাতিল ও নানকার প্রথা রদ করে কৃষকদের জমির মালিকানা দিতে বাধ্য হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত