১৯ আগস্ট, ২০১৫ ২০:০৭
অবশেষে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সড়কের কুশিয়ারা নদীর উপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘চন্দরপুর সেতুর’ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু’র উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে সেতুটি পরিদর্শন করেন সিলেট-৬ আসনে সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
এতে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হয়েছে উল্লেখ সেতু পরিদর্শকালে মন্ত্রী বলেন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ লাগব ও শিক্ষার উন্নয়নে এ সরকার খুবই আন্তরিক।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ১৯ জুন তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৪ সালে তখনকার সংসদ সদস্য সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া আবারও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুর কাজও শুরু হয়ে কিছুদিন চলার পর তা থেমে যায়। ২০১৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সেতুটির নির্মাণ কাজ ফের শুরু করেন। দু’বছরে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
বহুল প্রতীক্ষিত সুনামপুর-চন্দরপুর সেতুর উদ্বোধনের প্রাক্কালে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে বিয়ানীবাজারে কর্মরত সাংবাদিক ও সংগঠক মাছুম আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমাদের যাতায়াতের সমস্যা ছিল; শিক্ষামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেতুর কাজ শেষ হওয়ার মধ্যে দিয়ে দু’ উপজেলার যে সেতু বন্ধন তৈরী হয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি এর ভেতর দিয়ে আমাদের এ জনপদ আরোও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সুনামপুরের বাসিন্দা আলীম উদ্দিন বলেন, এই সেতুটি আমাদের বহুল প্রতিক্ষিত ছিল। সেতুর নির্মাণের মাধ্যমে এ অ লের লোকজন খুবই উপকৃত হলেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঐদিন দেশের আরো কয়েকটি সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনকালে গণভবনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মন্নান, জ্যেষ্ট সংসদ সদস্য, আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে সেতু পরিদর্শন পূর্বে দুপুরে সিলেটে নিহত শিশু সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে যান শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ। এ সময় মন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাজনের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পরে সেখানে রাজন হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
আপনার মন্তব্য