২০ আগস্ট, ২০১৫ ২২:৫৯
ঋতুচক্রের পরিক্রমায় এখন শরৎকাল চলছে। বর্ষাকাল ইতোমধ্যে বিদেয় নিয়েছে। অথচ বর্ষা শেষেই সিলেটে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত দু'দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটের উপর দিয়ে বহমান সুরমা ও কুশিয়া নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিসথিতির আরো অবনতির শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই মাসজুড়েই বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন জানান, বন্যায় কি পরিমান মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে এ তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে যথেষ্ট পরিমান ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সিলেটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটে সুরমা নদীর বিপদসীমা ১১.২৫ মিটার। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই পয়েন্টে ১১.৩০ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিলো।
সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপদসীমার ৯৮ ও সুনামগঞ্জে ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো।
অপরদিকে, কুশিয়ারা নদীর পানি শ্যাওলায় বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তরা। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি অমলসিদ পয়েন্টে এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।
এদিকে আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, টানা বর্ষনে সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জে তাহিরপুর, শাল্লা, দিরাই, ধর্মপাশা, মৌলভীবাজারের বড়লেখাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এসব উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আকস্মিক বন্যায় এসব এলাকার বিস্তির্ণ ফসলের ক্ষেতও তলিয়ে গেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, বন্যার পানিতে ৪৮০ হেক্টর আউস, ৫০ হেক্টর বীজতলা, ৩০ হেক্টর সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ বন্যা সপ্তাহখানেক স্থায়ী হলে ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, বন্যায় ৩৫০ হেক্টর আউস, আমন ৫০ হেক্টর বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
বন্যায় এ দুই উপজেলার অনেক সড়কও তলিয়ে গেছে। অসময়ে বন্যার কারনে রােগবালাই ছড়িয়ে পড়ারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আপনার মন্তব্য