২১ আগস্ট, ২০১৫ ২০:৫৪
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গত সপ্তাহ খানেকের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে এ পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ২ হাজার হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফলে বাড়ি থেকে বেড় হতে পারছেন না মানুষ। জেলার বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,মধ্যনগড়,দোয়ারা,ছাতক,দিরাই-শাল্লা বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০ হাজার হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার নিম্নাঞ্চলের স্কুল,হাট-বাজার,বসত-বাড়ি,রাস্তা-ঘাট ও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে জোয়ারের পানিতে। জেলার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৭৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ১৯ সেঃ মিঃ বৃষ্টিপাত রেকড করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উপজেলা সদর হাসাপাতাল,বিভিন্ন হাট-বাজার ও নিন্মা অ ল গুলোর বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ডুবে যাওয়া হাট-বাজারের দোকানের মালামাল অনত্র সরিয়ে নিচ্ছে ও স্কুল গুলোতে ছাত্ররা আসতে না পারায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার ২৩টি হাওর ও নদ-নদীগুলোতে বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানির প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সপ্তাহ খানেকের ভারি বর্ষনে সীমান্তের ছোট-বড় ২০ছড়া দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ী ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারনে পাহাড় ধসের আতংকের মধ্যে রয়েছে চারাগাঁও,চানঁপুর,রজনী লাইন,বড়ছড়া,বাগলী সীমান্তে বসবাস কারী মানুষ। এদিকে যাদুকাটা নদী দিয়ে পাহাড়ী ঢলের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী বসত বাড়ি গুলো রক্ষা করার জন্য ঐ এলাকার লোকজন করছে পানির সাথে যুদ্ধ।
অব্যাহত ভারি বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের কারনে বন্যা দেখা দিয়েছে উপজেলার পাতারগাঁও, ইছুবপুর, টেন্ডারপাড়া, সোহালা, সত্রিশ, ইসলামপুর, লামাগাঁও, লামাগাঁও সহ ৪০ গ্রামের মানুষের বসতবাড়ির চারপাশে পানি বন্ধী হয়ে আছে ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে মৎস্য চাষের পুকুর ও অনেক ফসলী জমি। নদীর তীর সংলগ্ন বীজতলা,আবাদি জমি গুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন,রফিকুল ইসলাম,খেলু মিয়া,আলীনুর মিয়া,সাদেক মিয়া,বট্টু সহ এলাকাবাসী জানান-এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে ছোট-বড় পুকুর,খাল-বিলে পানি উপচে পড়ায় মাছ ও মাছের পোনা ভেসে গেছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে। ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলার বাদাঘাট বাজার ঔষধ কোম্পানীর ফারিয়ার সভাপতি সুহেল আহমদ সাজু জানান-জেলা শহর সহ আশেপাশের উপজেলা গুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যে ভাবে বাড়ছে বৃষ্টি,সেই সাথে বাড়ছে পানি তাতে করে সীমাহীন ভোগান্তির শেষ থাকবে না অসহায় এ উপজেলা বাসীর।
শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান ও অমর চন্দ্র তালুকদার জানান-বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানি বাড়ায় স্কুলে পানি প্রবেশ করেছে তাই ক্লাস বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান-বন্যার পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে পানি প্রবেশ করেছে তাই ক্লাস বন্ধ রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-বন্যার কারণে তাহিরপুর উপজেলার হাওর এলাকার দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলোতে বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা মধ্যে। যে পরিস্থিতি হউক মোকাবেলা করার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আপনার মন্তব্য