COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

56

Confirmed Cases,
Bangladesh

06

Deaths in
Bangladesh

25

Total
Recovered

1,004,533

Worldwide
Cases

51,563

Deaths
Worldwide

210,519

Total
Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ জুলাই, ২০১৯ ১৪:৫৬

হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বিশ্ব বরেণ্য কূটনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০১ সালের ১০ জুলাই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর জন্ম ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট শহরের দরগা গেইটস্থ রশিদ মঞ্জিলে। পিতা আব্দুর রশিদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় বিধান সভার সদস্য এবং মাতা সিরাজুন নেছা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য।

হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার হাই মাদ্রাসা সেকশনে প্রাথমিক শিক্ষা ও আসামে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ১৯৪৭ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তারপর ইংলিশ বারে অধ্যয়ন করেন ও লন্ডনের ইনার টেম্পলের একজন সদস্য হন। লন্ডনেরই 'আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠান' থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

এছাড়াও ম্যাসাচুসেটসের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপে পাকিস্তান ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন। সে সুবাদেই তিনি যুক্তরাজ্যে প্রথম এশিয়ান স্টুডেন্টস কনফারেন্স আয়োজনে সক্ষমতা দেখান।

১৯৫৩ সালে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী তৎকালীন পাকিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে কর্ম জীবন শুরু করেন। কূটনীতিবিদ হিসেবে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে অবস্থান করেছিলেন। তন্মধ্যে রোম, বাগদাদ, প্যারিস, লিসবন, জাকার্তা এবং নতুন দিল্লী অন্যতম।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কূটনৈতিক যোদ্ধা, দেশের পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়নের অন্যতম কারিগর সজ্জন, সুপুরুষ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী।

১৯৭২ সালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭৬ সালের পর সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং ভ্যাটিকানেও একই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ এবং জাতিসংঘের শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন সংস্থা বা ইউনিডো’র প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি তিনি ছিলেন।

রাজনীতির কলুষতামুক্ত উন্নয়নকামী এই জননেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

একাধিক আসন থেকে বিভিন্ন সময় জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী আপাদমস্তক ভদ্রলোক, মেধাবী এই মানুষটি সিলেটের উন্নয়নে ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বৃহত্তর সিলেটের টেকসই উন্নয়নের সূচনা তাঁর হাত দিয়েই। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য থাকার সময় জগন্নাথপুর কলেজ স্থাপন, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণসহ সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গ্রহণ করেছিলেন মহাপরিকল্পনা। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বাস্তবায়ন হয়েছে।

১৯৯৬-২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করার সময় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে পালন করেন যুগান্তকারী ভূমিকা। খ্যাতিমান কূটনীতিক হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী প্রবাসে বিশেষ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু করতে অসামান্য অবদান রাখেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে তিনি যে মেধা ও বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন তা সুবিদিত।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত মহান এই দেশপ্রেমিক ২০০১ সালের ১০ জুলাই ৭২ বছর বয়সে মারা যান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত