২৪ আগস্ট, ২০১৫ ১২:৩৩
কোনোরুপ আপত্তি ছাড়াই সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় চার্জশিট আমলে নিয়েছেন আদালত। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শুনানি শেষে মহানগর হাকিম আদালত-১ এর বিচারক সাহেদুল করিম এই চার্জশিট আমলে নেন।
বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি না থাকায় আদালত মামলার পলাতক তিন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন। আগামী ৩১ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
এরআগে গত ১৬ আগস্ট আলোচিত এই হত্যার মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি'র ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার। চার্জশীটে ১৩ জনকে আসামী করা হয়। এরমধ্যে সৌদী আরবে আটক কামরুল ইসলামসহ ৩ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
সিলেট জেলা জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, সেমাবার সকালে আদালত শুনানি শেষে চার্জশিট আমলে নিয়েছেন। একইসাথে চার্জশিটে অভিযুক্ত তিন পলাতক আসামি সৌদিতে আটককৃত কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ এবং আরেক হোতা পাভেলকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারিসহ তাদের মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আলোচিত এ মামলায় চার্জশীটভূক্ত আসামীদের মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন- কামরুলের ভাই আলী হায়দার, মুহিদ আলম, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।
এদিকে রাজন হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত মুহিদ আলমের স্ত্রী লিপি বেগম এবং শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুছের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। ঘটনার শুরুতে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলেও নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপি প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে দ্রুত মামলা গ্রহণ এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের সাধারণ মানুষের সহায়তায় আটক করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় ১২ ব্যক্তিকে। মুল আসামী কামরুল সৌদি আরবে পালিয়ে গেলে সেখানেও প্রবাসীরা তাকে আটক করে।
আপনার মন্তব্য