০১ আগস্ট, ২০১৯ ২১:১২
বানিয়াচং হবিগঞ্জ রোডের শুঁটকী ব্রিজের সংস্কার কাজের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এ রোড দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির কয়েকটি জায়গায় লোহার প্লেটগুলোতে গর্ত এবং ফাটল দেখা দেয়ায় মেরামতের শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) থেকে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। এদিকে ব্রিজ মেরামতের অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে যানবাহনগুলো। বিশেষ করে মালামাল নিয়ে হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যানবাহন গুলো তাদের মালামাল নিয়ে পড়ছেন চরম বিপাকে।
যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে সিএনজি, অটোরিকশা, মিনিবাস, মেক্সিসহ জিপ গাড়িগুলো। হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচং এর দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। সিএনজিতে করে হবিগঞ্জ বানিয়াচং স্ট্যান্ড থেকে বানিয়াচং নতুনবাজার অথবা বড়বাজারের ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে শুঁটকী ব্রিজ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা করে। যাত্রীরা ব্রিজ পার হয়ে অপর একটি সিএনজিতে করে বানিয়াচং নতুনবাজার অথবা বড়বাজার স্ট্যান্ড পর্যন্ত মাত্র ৪ কিলোমিটারের ভাড়া নিচ্ছে ২০ টাকা করে। উভয়দিক থেকে মোট জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিচ্ছে সিএনজি চালকরা।
অন্যদিকে ছোট ছোট মিনিবাস, ম্যাক্সি ও জীপ গাড়ি হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচং আসতে জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে ২৫ টাকার পরিবর্তে শুঁটকী ব্রিজ পর্যন্ত ২০ টাকা এবং শুঁটকী ব্রিজ পার হয়ে বানিয়াচং আসতে ১৫ টাকা নিচ্ছে। বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী চাকুরীজীবী আব্দুল মঈন।
তিনি জানান, ব্রিজ মেরামতের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াটা অযৌক্তিক। কাজ হচ্ছে ব্রিজের তাহলে আমরা বাড়তি ভাড়া কেন দিব। এই চাপটা আমাদের উপর কেন। এর জবাব কে দিবে।
নিশাত মাহমুদ নামে আরেকজন যাত্রী জানান, আর কিছু দিন পরেই ঈদ। এই মৌসুমে ব্রিজের কাজে হাত দেয়াটা ঠিক হয়নি। মেরামত যদি করতে হয় তাহলে আরও দুই সপ্তাহ আগ থেকেই কাজটা করলে কি এমন ক্ষতিটা হতো।
সামসুদ্দিন নামের আরেক যাত্রী জানান,যাত্রীদের এভাবে পকেট কাটা হলেও তা যেন দেখার কেউ নেই। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে আমাদের। আমরা তাদের কাছে অসহায়।
বাড়তি ভাড়া নেওয়ার প্রসঙ্গে বানিয়াচং সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি (একাংশ) মোয়াজ্জেম হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা ব্যস্ত থাকায় সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গতিতে কাজ চলছে আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্রিজটির মেরামতের কাজ শেষ হবে।
আপনার মন্তব্য