০৮ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:০৬
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচন ফের স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। কামিল আহমদ নামে চেম্বারের এক সদস্যের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও মোহাম্মদ আলী গত ৬ আগস্ট এ আদেশ প্রদান করেন।
আদেশে সিলেট চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ কেন অবৈধ নয় এ ব্যাপারেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
তবে এ আদেশ প্রদানের দুদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজে নিয়োগকৃত প্রশাসকের নেতৃত্বে চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইলেকশন বোর্ড ও আপীল বোর্ড নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। এসময় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়। তবে উচ্চ আদালতের আদেশের ফলে নির্বাচন আয়োজন আর সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।
এরআগে গত ৭ জুলাই সিলেট চেম্বারের নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিলো। তখন তাহিমন আহমদ নামে আরেক চেম্বার সদস্যের রিটের প্রেক্ষিতে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সকল কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন আদারত। ফলে পন্ড হয়ে যায় নির্বাচনের আয়োজন।
নির্বাচনে স্থগিতাদেশ সম্পর্কে সিলেট চেম্বার অব কমার্সরর প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে স্থগিতাদেশ সম্পর্কিত একটি চিঠি চেম্বার কার্যালয়ে এসেছে। তখন আমি অফিস থেকে চলে আসায় এটি এখনও দেখতে পারিনি। ঈদের পরে এ ব্যাপারে চেম্বারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, নির্বাচন পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান এবং আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান এডভোকেট শমিউল আলম।
জানা যায়, সিলেট চেম্বারের নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ গত ৭ এপ্রিল ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচনের আয়োজন করে। সে লক্ষ্যে নির্বাচনী বোর্ড ও আপীল বোর্ড গঠন করা হয়। তবে ভোটারদের কাগজপত্র যাচাইবাছাই কালে ৮৮ জন ভূয়া ভোটার সনাক্ত করে নির্বাচনী বোর্ড। ভূয়া ভোটার তালিকার কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত করে।
নির্বাচন স্থগিতের পর ভোটার তালিকা বাছাইয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা সরজমিনে সিলেট চেম্বার পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রমাণ পান। তদন্ত প্রতিবেদনে ৪০ শতাংশ সদস্যই ভুল তথ্য ও জালিয়াতি করে সংগঠনটির ভোটার হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-সচিব মো. জালাল উদ্দিন গত ১৭ এপ্রিল এই তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।
এদিকে নির্বাচন পেছাতে ৪ এপ্রিল বাণিজ্যমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেন চেম্বার সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ। ওই আবেদনে সুপারিশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ভোটার তালিকা সংশোধনকল্পে এই পরিষদের ৩ মাসের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচনের জন্য সিলেট চেম্বারের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৩ মাস সময় বাড়িয়ে দেয় মন্ত্রণালয়।
গত ২৫ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (২০১৯-২০২১) সালের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও আপীল বোর্ড পুণর্গঠন করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানকে। আর আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে।
এর আগে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বিজিত চৌধূরী ও আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন।
ভূয়া ভোটার রেখে নির্বাচন আয়োজন ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সময়বৃদ্ধির নির্দেশনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক তাহমিন আহমদ। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সিলেট চেম্বারের সকল কার্যক্রম স্থগিত এবং বাণিজ্য মন্ত্রনালয়কে কারন দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এই স্থগিতদাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের দ্বরাস্থ হয় সিলেট চেম্বার।
চেম্বার জজ আদালত এ ব্যা্পারে কোনো নির্দেশনা না দিলে হাইকোর্টের আপীল বিভাগে সিলেট চেম্বারেের পক্ষ থেকে আপীল করা হয়। সেই আপীলও খারিজ হয়ে যায়।
আপনার মন্তব্য