নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ আগস্ট, ২০১৫ ০২:২৫

‘পুলিশের সাহায্য চেয়েও পাইনি’

পুলিশের সাহায্য চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতদলের কবলে পড়া যাত্রীবাহি বাসের চালক মকবুল হোসেন। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে ডাকাতদের আক্রমণের খবর জানানো হলেও তারা সাহায্যে এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২ টায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম'র কাছে এমন অভিযোগ করেন চালক মকবুল হোসেন। ডাকাতদের হামলায় যিনি নিজেও আহত হয়েছেন।

এর আগে রাত ১১টার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের কাটাখাল ব্রিজের কাছে ঢাকাগামী এমআর পরিবহনের বাসে হামলা চালায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। ডাকাতদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চালকসহ অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসটি কোম্পানীগঞ্জের টুকেরবাজার থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলো।

ডাকাতদলের হামলার বর্ণনা দিয়ে বাসের চালক মকবুল হোসেন বলেন, দুটি ইঞ্জিন নৌকা করে ৩০/৩৫ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল প্রথমে কোম্পানীগঞ্জের তেলিখাল পেট্রোল পাম্পের সামনে আক্রমণ করে। তারা বাসের সামনের গ্লাসে গুলি করে বাস থামাতে চায়।

মকবুল বলেন, 'ডাকাতদের হামলার সাথে সাথেই আমি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বিষয়টি জানাই। এসময় ওসি জানান, সামনের কাটাখাল ব্রিজের পাশে পুলিশের টহল রয়েছে।' গাড়ি নিয়ে কাটাখাল ব্রিজের পাশে চলে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

চালক মকবুল হোসেন বলেন, 'ওসির কথামতো আমি ডাকাতদের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে কাটাখালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। কাটাখাল গিয়ে দেখি ইঞ্জিন নৌকায় করে ডাকাতরা আগেই সেখানে পৌছে গেছে। কিন্তু কোনো পুলিশ সদস্যকে সেখানে দেখিনি।'

মকবুল হোসেন বলেন, 'এসময় ডাকাতরা এসেই আমার ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। আমি সাথে সাথে বাস থেকে নেমে যাই। তারপর ডাকাতরা গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের উপর হামলা চালায়। তারা যাত্রীদের উপর গুলি ছুঁড়ে ও কুপিয়ে তাদের সর্বস্ব লুটে নেয়।' হামলায় নারী পুরুষসহ অন্তত ত্রিশ যাত্রী আহত হন বলে জানান মকবুল।

ডাকাতদল সর্বস্ব লুটে নিয়ে নৌকা করে চলে যাওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। এরপর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

কাটাখাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আজমত আলী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কাটাখাল এলাকায় প্রতিদিন পুলিশের টহল থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ছিলো না।

বাস চালকের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে কোম্পানীৃগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলওয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

তবে দূর্ঘটনার পরপর তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গুলিবিদ্ধ ও আহত ৩০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ডাকাতদের ধরতে অভিযান চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত