৩০ আগস্ট, ২০১৫ ২৩:১৪
কুশিয়ারা পাশাপাশি সুরমা ও সোনাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। গ্রামের পর গ্রাম বন্যায় ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির জন্য পাশ্ববর্তী গ্রামে ছুটছে মানুষ।
রবিবার বিকালে কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপদ সীমার ৯৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। সুরমা নদীর ২৫ সেন্টি মিটার ও সুনাই নদীর ৩৫ সেন্টি মিটার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যায় গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রত্যেক গ্রামে দু-একটি বাড়ির টিউবয়েল তলিয়ে না যাওয়ায় বন্যার পানি ঘেঁটে প্রতিবেশীরা এসব টিউবয়েল থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন। নতুন করে বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা এলাকা এবং মোল্লাপুর ইউনিয়নের লাসাইতলা, আলীপুর ও লামা পাতন এবং লাউতা ইউনিয়নের নন্দিরফল এলাকা।
উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের পাঞ্জিপুর এলাকার বৃদ্ধ মন্তাজ আলী বলেন, কল পানির তলে (টিউবয়েল পানির নিচে) বালা (ভালো) পানির লাগি (জন্য) রাস্তার পাশর এক বাড়ি থেকে পানি আনছি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আহমেদ কবির খান বলেন, বন্যায় ৭০টি পুকুর, ৬টি মাছের খামার ডুবে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৫ লাখ টাকা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমান আরও বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান শনিবার ও রবিবার উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, টিউবয়েল তলিয়ে যাওয়া বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এছাড়া ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজন খাটের উপর রান্না করছেন। কবলিত এলাকাবাসীকে উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে আতংকিত না হওয়ার জন্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসনে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলে বন্যা পরিস্থিতি হবে বলে তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য