৩১ আগস্ট, ২০১৫ ১৬:০৯
গণপূর্ত বিভাগ মৌলভীবাজার এর স্টেকইয়ার্ড, গুদামসহ স্টাফ কোয়াটার এর জন্য ১৯৭৫ সালে রূপসপুর মৌজার জে এল নং ৬৭, ১ একর ৬৯ শতক জায়গা ২১/৭৫-৭৬ নং এল এ মামলার মূলে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। অধ্যাবধি গেজেট নোটিফিকেশন হয়নি এবং ১৯৭৫ সাল হতে বর্ণিত ভূমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। গনপুর্ত বিভাগ উক্ত ভূমি ব্যবহার না করে ফেলে রাখায় কিছু অবৈধ দখলকারী অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বর্ণিত ভূমি দখল করে রেখেছেন।
গণপূর্ত বিভাগ ভূমি ফেলে রাখায় মোট ১.৬৯ একর এর মধ্যে ০.৯৩ একর জায়গা গনপুর্ত বিভাগের দখলে রয়েছে। বাকী জায়গা বিভিন্ন দখলদার দখল করে রেখেছেন। গনপুর্ত বিভাগের অধীন ০.৯৩ একর জায়গার মধ্যেও প্রায়ই আজকে একদল, কিছু জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করেন। কয়েক দিন পর অন্য এক পক্ষ ঐ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে নিজেরা অস্থায়ী ঘর-দরজা নির্মাণ করেন। এভাবেই চলছে এই জায়গার উপর ভাঙ্গা-গড়ার খেলা। যেন এর কোন মা-বাবা নেই।
গণপূর্ত বিভাগের মৌলভীবাজার অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুস সাত্তার জানান, জায়গাটি উনাদের দখলে আছে এবং মৌলভীবাজরের গনপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী মোঃ সেলিম আহমেদ সেখানে বসবাস করেন।
এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নুরুল হুদা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রূপসপুর মৌজায় জেএল নং- ৬৭, দাগ নং- ১৯১২, জমির পরিমান ০.২০ একর, দাগ নং- ১৯১৩ জমির পরিমাণ ০.১৭ একর, দাগ নং ১৯১৪ জমির পরিমাণ ০.২৮ একর, দাগ নং ১৯১৫ জমির পরিমাণ ০.১৮ একর দাগ নং ১৯১৬ জমির পরিমাণ ০.১০ একর মোট জায়গা ০.৯৩ একর গনপুর্ত বিভাগ মৌলভীবাজার এর স্টেক ইয়ার্ড, গুদামসহ স্টাফ কোয়াটার এর জন্য অধিগ্রহন করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সাল হতে বর্ণিত ভূমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। গনপুর্ত বিভাগ ভূমি ব্যবহার না করে ফেলে রাখায় কিছু অবৈধ দখলকার অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বর্ণিত ভূমি দখল করে রেখেছেন।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ণিত ভূমি সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সহজেই অবৈধ দখলকারদের উচ্ছেদ করা যাবে।
তফসিল বর্ণিত ভূমির পূর্বদিকে উপজেলা খাদ্য গুদাম, পশ্চিম দিকে আবাসিক এলাকা, উত্তর দিকে সিন্দুরখান রোড ও দক্ষিণ দিকে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সীমানা রয়েছে।
এ উপজেলায় জেলা শহরের ন্যায় সরকারি অফিস রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের অফিস ব্যতিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, বন বিভাগ, শিশু পরিবার, ডে-কেয়ার সেন্টার, র্যাব ক্যাম্প, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস, চা শিল্প শ্রমকল্যানসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের অসংখ্য কর্মকর্তা/কর্মচারী এ উপজেলায় অবস্থান করে থাকেন। আবাসনের সমস্যা প্রখর আকার ধারন করেছে। অনেক সময় আবসন সম্যসার কারনে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যান।
গণপূর্ত বিভাগের পরিত্যক্ত ভূমিতে সরকারি কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের জন্য উপযুক্ত ভূমি। উক্ত স্থানে সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে সরকারি সম্পদ উদ্ধার হবে অন্যদিকে পর্যটন উপজেলা হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সরকারি সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা লাঘব হবে। উক্ত স্থান হতে সহজেই রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যন্ড, স্কুল-কলেজ ও শ্রীমঙ্গল শহরের যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
ফলে ০.৯৩ একর ভূমি ছাড়াও ০.৭৬ একর ভূমি হতে ইতিপূর্বে অবৈধ দখল করা দখলকারদের নিকট হতে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আপনার মন্তব্য