হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৫:৫৭

হবিগঞ্জে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এসময় পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

জানা যায়, ৪ বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার ছিটফরিদপুর গ্রামের হাজী আব্দুর রহিমের মেয়ে রুমানা বেগমের সাথে ১ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সম্মানপুর গ্রামের ছালিম মিয়ার ছেলে নানু মিয়ার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের আড়াই বছরের মাথায় নানু মিয়ার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য রুমানাকে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্বা রুমানাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাপের বাড়িতে তার এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ অবস্থায় নানু মিয়া প্রায়ই রুমানার পিত্রালয়ে আসতো। গত ২৭ আগস্ট দিবাগত রাত ৪টায় ঘুমন্তা রুমানা বেগমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তার স্বামী নানু মিয়া।

রুমানার চিৎকারে বাড়ির লোকজন জেগে উঠে রুমানার গায়ের আগুন নেভায়। তাৎক্ষণিক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৮ আগস্ট রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়। ওইদিনই রুমানার পিতা হাজী আব্দুর রহিম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ২৯ আগস্ট পুলিশ নানু মিয়ার মা মায়া বেগমকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া নানু মিয়ার মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ফাঁদ পাতে পুলিশ। মহিলা সোর্সের মাধ্যমে প্রেমের অভিনয় করিয়ে সোমবার রাতে নানু মিয়াকে শেরপুর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গৌর চন্দ্র মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার জানান, রুমানার শরীরের ৭০% পুড়ে গেছে। গ্রেফতারকৃত নানু পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রুমানা পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ায় ক্ষোভে নানু রুমানার গায়ে আগুন দেয়।

এসময় নানু সাংবাদিকদের জানায়, তার স্ত্রী রুমানা পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল। রাতভর সে মোবাইল ফোনে প্রেমিকের সাথে আলাপ করতো। শিশু সন্তানসহ তার প্রতি রুমানার খেয়াল ছিল না। ঘটনার দিন রাতে তার শিশু সন্তান কান্নাকাটি করলেও রুমানা মোবাইল ফোনে কথোপকথন চালিয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে রুমানার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার জন্য সে অনুতপ্ত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত