০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:২৪
টানা ৪দিনের বৃষ্টিপাত, সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিশ্বনাথ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এখন বন্যার পানি দাবিত হচ্ছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত বেশ কটি শিক্ষাপ্রতিষ্টানে পানি ছুই ছুই করছে। এছাড়া কয়েকটি পরিবারের লোকজন পানিবন্দিসহ ১হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও ১শ’৫টি মাছ চাষকৃত পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
তবে বুধবারের মতো আকাশের অবস্থা ভালো থকালে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তলিয়ে যাওয়া ফসলি জমির মালিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধীরা আশা প্রকাশ করেছেন। তবে এখনও বন্যার কারণে মাধ্যমিক কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চিন্তা হরণ দাশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলীনুর বলেছেন, প্রথমদিকে ৬শ’ হেক্টর রোপা আমন তলিয়ে যায়। পরবর্তিতে মঙ্গলবার ও বুধবার বানের পানি বৃদ্দির কারণে প্রায় ১হাজার হেক্টরেরও বেশী ফসলী জমি বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে অঝরধারার বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে ফসলের আরও ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এদিকে বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হরিপুর এলকা পরিদর্শর করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার উপজেলার লামাকাজি, দৌলতপুর, দেওকলস ও দশঘর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা তিনি পরিদর্শন করেন। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে তিনি (ইউএনও) মুহাম্মদ আসাদুল হক বলেন, হরিপুর গ্রামের একটি খাল দিয়ে সুরমা নদীর পানি বিশ্বনাথে প্রবেশ করছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাটসহ বেশক’টি বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠলেও ২/৩টি বাড়িঘর ছাড়া একেবারেই পানি বন্ধি বা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন এমন মানুষ সংখ্যায় কমই রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় ১হাজার হেক্টর রোপা আমনের ফসলি জমিসহ চাষকৃত মাছের শতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
একাধিক সূত্রে জানাগেছে, উপজেলা সদরের নতুন বাজারে নি¤œাঞ্চল, বাসিয়া নদীতীরের বেশ কয়েকটি দোকান পাঠে বানের পানি উঠেগেছে। উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের চারিগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, চারিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধলী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ও অর্ধ শতাধিক বাড়িঘরের আঙ্গিনা বানের পানিতে টয়টুম্বুর হয়েগেছে। এছাড়াএদওকলস ইউনিয়নের কালিগঞ্জ-সৎপুর সড়কের অধর্-কিলোমিটারসহ বিভিন্ন পাঁকা ও আধা-পাকা রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
চলতি মৌসুমে উপজোয় রোপনকৃত প্রায় ১০ হাজার ৫ হেক্টর রোপা আমনের মধ্যে ১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বিশ্বনাথের ৮ইউনিয়নের মধ্যে মাছ চাষকৃত ৭ হাজার ৫শ’ পুকুরের মধ্যে ১শ’ ৫টি পুকুর বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার পোনা ও বড়মাছ ভেসে গেছে। তলিয়ে যাওয়া পুকুরের মধ্যে দেওকলস, লামাকাজি ও রামাপাশা ইউনিয়নের মাছ চাষীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বণিক জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য