০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:৫৩
নগরীর মাছুদিঘীর পাড়ের ত্রিনয়নী সার্বজনীন পূজামন্ডপের প্রতিমা
বোধন শেষে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটছে শারদোৎসবের। শারদীয় দুর্গাপূজার প্রথম দিন আজ ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। বাঙালী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শেষ হবে আগামী ৮ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ-উলুধ্বনি আর ভক্তকুলের আবাহনের মন্ত্রোচ্চারণে দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আগমন ঘটেছে।
এদিকে পূজার মন্ত্রোচ্চারণ, মন্দিরে মন্দিরে ধূপ-ধুনোয় ভক্তদের নৃত্য আরতি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর-মন্দিরার পাশাপাশি মাইকের আওয়াজ আর বর্ণাঢ্য আলোকচ্ছটায় আজ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে’ দুর্গতিনাশিনীর আগমন আনন্দে বিহ্বল বিশ্বের কোটি কোটি হিন্দু। প্রতিমা তৈরি শেষে বাহারি রং চড়েছে প্রতিমার গায়। নিপুণ শিল্পী তার তুলির আলতো ছোঁয়ায় জাগিয়ে তুলেছেন মা দুর্গাকে। আজ ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে খুলে যাবে মা দুর্গার স্নিগ্ধ শান্ত চোখ। জেগে উঠবেন দশভুজা। আশীর্বাদ দেবেন মনোবাঞ্ছা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পূজারীকে। আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী।
দুর্গতিনাশিনী দুর্গা এসেছেন বিশ্ব শান্তির জন্য তথা সবার মঙ্গলের তরে। কিন্তু অসুরবিনাশিনী জগজ্জননী দেবী দুর্গা বাঙালীগৃহে আসেন অন্যভাবে। কৈলাশ ছেড়ে প্রতিবছর তিনি কন্যারূপে আসেন বাবার বাড়িতে। দেবী দুর্গার সঙ্গে প্রতি শরতে মর্ত্যে আসেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। এই চালচিত্রে দেবাদিদেব মহাদেবও (শিব) বাদ যান না। লক্ষ্মী সমৃদ্ধি ও সরস্বতী জ্ঞানের প্রতীক। কার্তিক দেবসেনাপতি, শত্রুবিনাশকারী। আর গণেশ হচ্ছেন সর্বসিদ্ধিদাতা অর্থাৎ মানুষের কামনা পূরণকারী। বাঙালী হিন্দুরা যে কোন শুভ কাজে ইষ্টনাম হিসেবে দেবী দুর্গাকে স্মরণ করে থাকেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙ্গার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মণ্ডপে মণ্ডপে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় বন্দনা পূজা হয়।
পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজোকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কা যাত্রার আগে শ্রীরামচন্দ্র দেবী পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এজন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।
সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন (আগমন)। দেবী স্বর্গলোকে বিদায়ও (গমন) নেবেন ঘোটকে চড়ে, যার ফল হলো ফসল ও শস্যহানি। অর্থাৎ এবার দুর্গা দেবীর আগমনে পৃথিবী থেকে শস্য ও ফসলের বিনাশ হবে।শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সিলেটে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, সোমবার মহানবমী এবং মঙ্গলবার বিজয়া দশমী শেষে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়ার শোভাযাত্রা। দুর্গোৎসব চলাকালে পূজার প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতির আয়োজন করা হবে। এছাড়া সিলেটজুড়ে দুর্গোৎসব চলাকালে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হবে।
আপনার মন্তব্য