তাহিরপুর প্রতিনিধি

০৫ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:১১

তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে উপজেলাবাসী

“সড়কের পাথর উঠে গর্ত পানি জমে থাকে, বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন থাকায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় চলাচল করতে গেলেই প্রতিদিনেই নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষজন। এই সড়কে মটর সাইকেল ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল করে না। পাতারগাঁও খেয়া পার হতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় উপজেলাবাসীর গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ক্ষোভ নিয়ে এই কথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা হান্নান মিয়ার। এই সব কথাগুলো শুধু মটর সাইকেল চালক হান্নান মিয়ার না। একই অভিযোগ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের।

সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর উপজেলাটি অর্থনৈতিক ও পর্যটন সমৃদ্ধ হলেও এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন সুফল ভোগ করতে পারেনি উপজেলাবাসী। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বাদাঘাট বাজারটি গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজার হয়ে উপজেলার ৩টি শুল্ক ষ্টেশনে সহজে চলাচলের পথ হওয়ায় এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে সবাই। তাই সবার দাবী দ্রুত সড়কটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার।

এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক সোহেল আহমদ সাজু জানান-তাহিরপুর-বাদাঘাট রাস্তাটি খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা ভাঙ্গা ছোড়া থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ আর পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে সবাইকে। জোড়া তালি দিয়ে চলছে। বর্তমানে চলাচল করা খুবেই কঠিন।

এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাইদুল্লাহ মিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ সড়কটি। অনুমোদন হলে এ সড়ক কাজ শুরু হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি)তাহিরপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাহিরপুর-বাদাঘাট দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। উপজেলার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বাদাঘাট বাজার, ৪টি ইউনিয়ন, ৩টি শুল্ক ষ্টেশনে যেতে ও উপজেলা সদর, হাসপাতালে আসতে হলে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয় জনসাধারণকে। ১৯৯৩ সালে এলজিইডি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন মাটির সড়ক তৈরি করা হয়। পরে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে ২০১১-১২অর্থ বছর পর্যন্ত সড়কের ৬ কিলোমিটার কাজ পাকা করা হয়েছে। এরপর গত ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এই সড়কটিতে তিনটি ভাগ করে মেরামতের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এই সড়কের বৌলাই নদী উপর নির্মিত ব্রিজ থেকে সূর্যেরগাঁও পর্যন্ত ৭৫০ মিটার ও টাকাটুকিয়া ব্রিজে দুই পাশে মিলিয়ে বল্ক দিয়ে ২৫ ফুট সড়কের কাজ হয়েছে। পরে আর কোন কাজ হয় নি।

এদিকে টাকাটুকিয়ার ব্রিজ থেকে পাতারগাঁও (ইসলামপুর) পর্যন্ত সড়কের কোন কাজ হয় নি। ফলে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আর কাজ না হওয়ায় বর্ষায় নৌকার উপরেই ভরসা করতে হবে সর্বস্তরের জনসাধারণকে।

এই সড়কটির বিষয়ে বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না বলে দাবি উপজেলাবাসীর। এদিকে উপজেলাবাসী অভিযোগ করছেন বড় প্রকল্পের আশায় ছোট প্রকল্প হাতে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, তাহিরপুর-বাদাঘাট গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির স্থানে স্থানে ভাঙ্গনের কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এই সড়কে জনদুর্ভোগ লাগবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া খুবেই প্রয়োজন । 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত