০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৮:১৪
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পনাইরচক গ্রামের বাসিন্দা নিহত ইউপি সদস্য মইনুল ইসলাম মজনুর স্ত্রী মিনারা বেগম তার স্বামীকে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী জানান।
হত্যা মামলার আসামী সিলেট জেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়রম্যান এমএ মছব্বিরসহ তার সহযোগিদের শাস্তি দাবি করেন নিহতের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৫ সালে মছব্বির চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা ইউপি সদস্য মজনুকে হত্যা করে। খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি নিতে আসামীরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন সময়ে আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যবহার করে। গত ৫ আগস্ট প্রায় ১০ বছর পর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালত-৩ এর বিচারক ২০০৬ সালের ৩ জুলাই দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্র (নং ৪৫) আমলে না নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তের দায়িদ্ব দেওয়া হয় পুলিশ ইভেষ্টিগেশন ব্যুরো, সিলেট অফিসকে। আদালত মছব্বির চক্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানাও জারি করেন। এ অবস্থায় তাদের গ্রেফতার ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাটি সঠিক পূণ:তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মিনারা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে মিনারা বেগম উল্লেখ করেন, গোলাপগঞ্জের কদুপর গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে এমএ মছব্বির গত ২০০৩ সালের ইউনিয়ন নির্বাচনে ভোট কারচুপি মাধ্যমে শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের বন্যার সময় রিলিফের চাল, ডাল, আলু, গুড়, সেলাইন, চিড়া, ঔষধ, বিস্কুট, কৃষকদের ধানের বীজ, সার, ঘর নির্মাণ ও সেনেটারী লেট্রিন নির্মাণের টাকা, বয়স্ক ভাতা, বিচারের নামে প্রায় শতাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে আমানতের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এক পর্যায়ে তার স্বামী মজনু মেম্বারসহ ৯জন মেম্বার চেয়ারম্যান মছব্বিরকে শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান পদ থেকে বহিস্কার করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। সালের ৫ জুলাই তার স্বামী মজনুকে জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে ফেঞ্চুগঞ্জ সত্তার কমপ্লেক্সের ৪ তলায় নিয়ে মছব্বির ও তার সহযোগিরা মজনুকে মারধর করে ৪ তলা থেকে ফেলে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় (জিআর ৪৬/০৫) করা হয়। ২০০৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (নং ৫২) দাখিল করা হয়। কিন্তু হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মছব্বির জেলা বিএনপির কৃষকদলের সভাপতি হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্তবার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডি কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে ২০০৬ সালের ৩ জুলাই আদালতে সম্পূরক অভিযোগ পত্র (নং-৪৫) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মামলার স্বাক্ষীদেরকে আসামী বানিয়ে মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, মছব্বির ও তাহার অপকর্মের সহযোগীরা আদালতে আত্মসমর্পণ না করে মজনু হত্যার অধিকতর তদন্ত বানচাল করার জন্য মিনারা বেগম ও পরিবারের সদস্য এবং মামলার স্বাক্ষীদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পারুল বেগম, তানজিনা, মজিদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে মিনারা বেগম তার স্বামী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। মিনারা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমছুল ইসলাম।
আপনার মন্তব্য