ডেস্ক রিপোর্ট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৬:১৪

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদান

'অবিলম্বে বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর ৭.৫% মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এর সিদ্ধান্ত বাতিল’ করার দাবিতে মিছিল সহকারে আজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, যে কোন দেশে উন্নতির প্রধান কারন হচ্ছে শিক্ষা। তাহলে কেন সরকার শিক্ষাকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিয়ে পণ্যে পরিনত করছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ৭.৫% কর আরোপের সরকারি যে সিদ্ধান্ত তা শিক্ষার্থীদের ভাবিয়ে তুলছে আমরা শিক্ষার্থী নাকি ক্রেতা? প্রতিষ্ঠার সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানগুলো হবে ‘অলাভজনক’ প্রতিষ্ঠান। এগুলো যে কেবল কথার কথা, তা আজ সবার কাছেই স্পষ্ট।

এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ আদায়ের কোনো নীতিমালা নেই। মালিকের ইচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ফি নির্ধারণ করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনা করছে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সেই ছেলেটি যাকে পড়াশুনার খরচ যোগাতে করতে হচ্ছে ৩-৪টি টিউশন। এই সামান্য বয়সেই মুখোমুখি হতে হয়েছে জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে। অথবা সেই অভিভাবকের কথা যিনি তাঁর সন্তানের একটু উন্নত ভবিষ্যতের আশায় সর্বস্ব বিকিয়ে দিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। তারা স্বেচ্ছায় এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হননি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংকট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অকার্যকারিতা-ভঙ্গুর দশা তাদেরকে বাধ্য করেছে এই পথে হাঁটতে। এই বাড়তি অর্থের যোগান দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যে দুর্দশায় পতিত হবে তাদের কথা কি রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে আপনি একবার ভেবে দেখবেন না?

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসির্টির শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ফাহিম হোসেন চৌধুরীরর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসির্টির শিক্ষার্থী দেবপ্রিয়া পাল, মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটি এর শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান, লীডিং ইউনিভার্সিটি এর শিক্ষার্থী আদনান তায়েব।

স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন। তিনি বিষয়টি নিয়ে যথাযত ভূমিকা রাখবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত