নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৮:৩৫

নিজের মন্তব্যের জন্য ‘দুঃখিত’ তবে শিক্ষকদের আন্দোলনে ‘বিস্ময়’ মুহিতের

বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও এ ইস্যুতে শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মুহিত বলেন, আমি আমার বক্তব্য সম্পর্কে খুবই দুঃখিত। তবে বিস্মিত যে, তারা সরকারের সিদ্ধান্ত জানার আগেই আন্দোলনে চলে গেছেন।'

আজকের সংবাদ সম্মেলনের পর আন্দোলন কর্মসূচী থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার বিনীত অনুরোধ, শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেবেন। দেশে যে শান্তি বিরাজ করছে তা অব্যাহত রাখতে সহেযাগীতা করবেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন ‘দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছেন। তাঁদের কর্মবিরতির কোনো যুক্তি নেই।’

অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে ক্ষোভ দেখা দেয় বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন শিক্ষক নেতারা।

এসময় নিজের সেদিনের বক্তবের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তা প্রত্যাহার করে নেন অর্থমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমি বলতে চেয়েছিলাম, তারা প্রকৃত সুপারিশ এবং সর্বোপরি সরকারের সিদ্ধান্ত না জেনেই আন্দোলনে নেমে গেছেন। শিক্ষকরা আন্দোলনে চলে গেছেন যখন তারা পুরো বিষয়টি সম্মন্ধে অবগত ছিলেন না। তারা জানতেন না যে, সিদ্ধান্ত কি হচ্ছে এবং সেই অবস্থায়ই আন্দোলনে চলে গেছেন। আমার বলা উচিত ছিলো, তাদের আন্দোলনটি তাদের অনবহিতির জন্য, তারা সঠিক তথ্য জানতেন না বলে।’

কিন্তু তাঁর সেদিনের বক্তব্য শিক্ষকদের জন্য মানহানিকর ছিলো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,‘ আমি যেভাবে বক্তব্যটি দেই তাতে অবশ্যই তাদের মানহানি হয়েছে কারন ‘জ্ঞানের অভাবে’ বলা আর ‘যথাযথ তথ্য সম্মন্ধে অনবহিত’ বলার মধ্যে তফাৎ আছে। আমি এ জন্য দুঃখিত এবং এই বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার বক্তব্য নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তা নিসরন হওয়া প্রয়োজন। এজন্যই আজকের সংবাদ সম্মেলন।

বেতন কমিশন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি আসলেই প্রাতনিধিত্বশীল একটি কমিশন ছিলো। এতে শিক্ষা পেশার চারজন সদস্য ছিলেন। ঘোষিত বেতন ভাতার স্কেলে অধ্যাপকরা আগের মতোই সচিবদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। একীভূত বেতন স্কেলে শিক্ষকদের অবস্থান বাস্তবে উন্নীত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মুহিত।

এসময় অর্থমন্ত্রী এও বলেন, তবে অধ্যাপকদের এই গ্রেডে যেভাবে পদোন্নতি হয় সেটা বেশ অস্বচ্ছ।

সংবাদ সম্মেলনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ইমরান আহমদ চৌধুরী, সাংসদ মাহমুদউস সামাদ চৌধুরী কয়েস, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, সাবেক সিটি য়ের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত